চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সন্ত্রাসীরা হামলা ও ভাঙচুর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুলাইয়ের কঠিন সময়ে যখন অনেকে নীরব ছিলেন, তখন সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী? এক জালিমের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক জালিমের হাতে পড়ার জন্য মানুষ জুলাইয়ে দাঁড়ায়নি।’
পোস্টের শেষাংশে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার নিন্দা জানান এনসিপির এই নেতা। একই সঙ্গে দেশকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জালিমদের হাত থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তিনি।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সালমানের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
অন্য একটি ভিডিওতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামুদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’
এদিকে স্টুডিওর এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল হঠাৎ স্টুডিওতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। তার দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
পরিস্থিতি দেখে স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।
জ/উ