রাজধানীর কলাবাগানে নিজের নামে থাকা দেড় কাঠা জমি ও ছয়তলা ভবন নিয়ে দেবর ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন সেতারা বেগম নামে এক নারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়া বর্তমানে ওই ভবন দখলে রেখেছেন। আর এর পেছনে তাঁর দেবর সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার প্রভাব রয়েছে। এমনকি সম্পত্তি বিক্রি করে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে গেলে ছেলেকে দিয়ে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সেতারা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, তাঁর মেয়ে চিকিৎসক ডা. নুসরাত ও বাড়ি ক্রয়কারী মো. ওমর ফারুক।
সেতারা বেগম বলেন, কলাবাগানের ৮৯/১ নম্বর ঠিকানায় তিন কাঠা জমির মধ্যে দেড় কাঠা তিনি নিজের সঞ্চিত অর্থ ও ঢাকার অন্য সম্পত্তি বিক্রি করে নিজের নামে কেনেন। বাকি দেড় কাঠা তাঁর দেবর আবুল খায়ের ভূঁইয়া কিনেছিলেন। পরে ২০০০ সালে আবুল খায়ের ভূঁইয়া তাঁর অংশের দেড় কাঠা জমি সেতারা বেগমের কাছে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেন।
এরপর নিজের অংশে আইনগত নিয়ম মেনে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন বলে দাবি করেন সেতারা। তাঁর ভাষ্য, জমি ও ভবনের দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য রেকর্ড তাঁর নামেই রয়েছে।
সেতারা বেগমের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আবুল খায়ের ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই সম্পত্তি তাঁর বলে দাবি করতে শুরু করেন। অন্যদিকে কানাডা থেকে দেশে ফিরে তাঁর একমাত্র ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়াও ভবনটি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
এরই মধ্যে সেতারা বেগমের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, মো. ওমর ফারুকের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করার পর ক্রেতাকে বাড়ি বুঝিয়ে দিতে গেলে ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়া তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেতারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় গিয়ে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেনি। বরং থানার পক্ষ থেকে তাঁকে বলা হয়, বর্তমান লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার নিষেধ থাকায় তাঁকে কোনো ধরনের সহায়তা করা যাবে না।
সেতারার ভাষ্য, ‘দলিলে, নামজারিতে ও সব রেকর্ডে সম্পত্তির মালিক আমি। অথচ আমার নিজের সম্পত্তি বিক্রি করেও ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে পারছি না। আমার ছেলে বাড়িটি দখল করে রেখেছে। এর পেছনে আমার দেবর আবুল খায়ের ভূঁইয়ার প্রভাব ও ষড়যন্ত্র রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর বড় মেয়ে তাঁকে দেখাশোনা করছেন। বড় মেয়ের স্বামীও মারা গেছেন। ছোট মেয়ে সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষায় রয়েছেন। ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেতারা বেগম একদিকে নিজের সম্পত্তির দখল ফেরত পাওয়ার দাবি জানান, অন্যদিকে তিনি যাঁর কাছে সম্পত্তি বিক্রি করেছেন, তাঁকে সেটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাঁর ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।
জ/উ