রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই স্থাপনায় পৃথক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা পুলিশ দুজনকে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গোয়েন্দা রমনা বিভাগ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কমলাপুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মো. সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) ও মো. সাইমুন (২৩)। আর সুপ্রিম কোর্টের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ (২৩)।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তদন্তে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে রায়হান ও সাইমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অপর গ্রেপ্তার সাইমুন শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিস্ফোরণ
এর পাঁচ দিন আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ককটেল সদৃশ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, তাঁর কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চারটি ককটেল সদৃশ অবিস্ফোরিত বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সালমান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর রেলস্টেশন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন জড়িতদের শনাক্ত ও ঘটনার পেছনের যোগসূত্র খুঁজে বের করার দিকে নজর দিচ্ছে।
জ/বা