লোহিত সাগরে হুতিদের রাজত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ

জবাবদিহি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এর মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উত্থান আরও সুসংহত হয়েছে।

2026-09-14T18:17:05+06:00
2026-09-14T18:17:05+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
লোহিত সাগরে হুতিদের রাজত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম 
লোহিত সাগরে হুতিদের রাজত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এর মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উত্থান আরও সুসংহত হয়েছে।

হুতিদেরকে এক সময় বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ও সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতো। এখন তারা লোহিত সাগরের পুরো ইয়েমেন উপকূল নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজধানী সানাসহ উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশও তাদের দখলে।

ইয়েমেন মূলত সুন্নি অধ্যুষিত। আর হুতিরা জায়দি সম্প্রদায়ের অনুসারী। এটি শিয়া ইসলামের একটি শাখা। অনুসারীরা দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাস করেন। ১৯৯০ সালে হুতিরা অভিযোগ তোলে জায়দিদের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামে।

হুতি আন্দোলনটি আনসার আল্লাহ (আল্লাহর সমর্থক) নামেও পরিচিত। সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ধর্মীয় নেতা বদরেদ্দিন আল-হুতি এবং তাঁর ছেলে হুসেইনের নামে। ২০০৪ সালে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাতে হুসেইন নিহত হন।

এরপর নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন হুসেইনের আরেক ভাই আবদুল মালিক। তিনি হুতিদেরকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী থেকে রাজধানীর শাসক ও আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন। বর্তমানে তাঁর অধীনে কয়েক হাজার যোদ্ধা আছে। তারা সবাই প্রশিক্ষিত ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বড় মজুত থাকায় উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের পাশাপাশি ইসরায়েলও হুতিদেরকে হুমকি হিসেবে দেখে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও হুতিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শাসক নয়। দেশটিতে স্বীকৃত একটি সরকার আছে। তাদেরকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব। 

এই বিভাজনের কারণে দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলেছে। ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে তৎকালীন সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের ছয় দফায় যুদ্ধ হয়। সমর্থন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ২০০৯-২০১০ সালে তারা সৌদি আরবের সঙ্গেও যুদ্ধে জড়ায়।

আরব বসন্তের সময় ২০১২ সালে ইয়েমেনের তৎকালীন শাসক আলি আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল হুতিরা। কিন্তু পরে সালেহর সঙ্গেই জোট বাধে। অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ২০১৭ সালে তারাই সালেহকে হত্যা করে।

হুতিরা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১৪ সালে। তখন তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর জেরে পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ভয়াবহ ওই গৃহযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

২০২২ সালে হুতিরা সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। তখন একটি ইরানি উড়োজাহাজকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল হুতিরা। এতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিমানবন্দরটিতে হামলা করে সরকারি বাহিনী।

ইরানের নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ অক্ষে হুতিরা অন্যতম বড় সদস্য। এই জোটে আরও আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইরাকের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী। 

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হুতিদেরকে ইরানের হাতিয়ার হিসেবে দেখে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীকে ইরান অস্ত্র সরবরাহ করে। তবে তেহরান এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

হিজবুল্লাহর মতো হুতিরাও ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব হিসেবে মানে না। তারপরও বছরের পর বছর ধরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত মার্চে ইরানের সমর্থনে হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যোগ দেয়। ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। 

এই প্রণালির মাধ্যমে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশের পর সুয়েজ খালের দিকে যায়। অর্থাৎ, জলপথটি এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করেছে। প্রতিবেশী সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

চলমান উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ে হুতিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদির জাহাজগুলোতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। 

৩ সেপ্টেম্বর হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। এক সপ্তাহের মাথায় লোহিত সাগরের পুরো উপকূল ও প্রণালির কৌশলগত একাধিক দ্বীপ দখলে নেয়। এর মধ্য দিয়ে জলপথটিতে নৌযান চলাচলের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সৌদির তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সক্ষমতাও বেড়েছে।


জ/রা




  বিষয়:   হুতি  হুতি বিদ্রোহী  ইয়েমেন  লোহিত সাগর  মধ্যপ্রাচ্য  ইরান  সৌদি আরব 



Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]