সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও বামপন্থী ও ডানপন্থী জোটের মধ্যে ব্যবধান মাত্র এক আসন। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার কোন জোট গঠন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত ফল প্রকাশে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
আংশিক ভোট গণনার হিসাবে, বামঘেঁষা বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে থাকা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের জোট পেয়েছে ১৭৫টি আসন। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪টিতে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুইডিশ সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটি জানায়, দুই জোটের ভোটের ব্যবধান প্রায় ২০ হাজার। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভোট গণনার পূর্ণাঙ্গ ফল বৃহস্পতিবারের আগে পাওয়া নাও যেতে পারে।
চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ না হওয়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনো একটি খোলা প্রশ্ন।
অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসন সমর্থকদের চূড়ান্ত গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারলে বিরোধী জোটই সুইডেনে নতুন সরকার গঠন করবে।
নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখলেও কয়েক দশকের মধ্যে এবার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে। একই সঙ্গে ডানপন্থী জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক সুইডেন ডেমোক্র্যাটসও প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। দলটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল থেকে নেমে তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটস এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি সরকারে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফল অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সেই সম্ভাবনাও এখন ঝুলে রয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে দলটি বর্তমান ডানঘেঁষা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারও ছিল উত্তপ্ত ও বিভক্ত। প্রচারের সময় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এবং অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক প্রাধান্য পেয়েছে।
ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা, অভিবাসন ও অর্থনীতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েও দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ নাও হতে পারে। নতুন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ/উ