ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে লিভারপুল। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি ‘অলরেডরা’। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে আসা হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে চেলসি। জোয়াও পেদ্রোর দ্বিতীয়ার্ধের দারুণ এক গোলে ‘ব্লুজরা’ কোনোমতে এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে। চেলসির হয়ে প্রথম গোলটি করেন মর্গান রজার্স। হাল সিটির দুটি গোলই আসে আলজেরিয়ার উইঙ্গার মোহাম্মদ বালৌমির নৈপুণ্যে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে রুখে দেওয়ার পর এবার চেলসির কাছ থেকেও এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে স্বপ্নের মতো মৌসুম শুরু করেছে প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা হাল সিটি।
ফুলহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে লিভারপুল একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ ইরাওলা। মিলোস কারকেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রিও এনগুমোহার পরিবর্তে শুরু থেকে খেলেন কস্তাস সিমিকাস, রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও ভিক্টর মুনিয়োজ।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ফুলহ্যাম। লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকার ও গ্রাভেনবার্চের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে গঞ্জালো গার্সিয়া শট নেন। তবে গোললাইন থেকে দারুণভাবে বলটি ক্লিয়ার করেন জেরেমি জ্যাকে।
প্রথমার্ধে লিভারপুলের তুলনায় কিছুটা ভালো খেলছিল সফরকারী ফুলহ্যাম। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় গোলের দেখা পায়নি তারা। ডি-বক্সের ভেতর থেকে জশ কিংয়ের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন আলিসন। অন্যদিকে অ্যান্টোনি রবিনসনের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
লিভারপুলও গোলের সুযোগ তৈরি করে। ভিক্টর মুনিয়োজের দুর্দান্ত হেড চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন ফুলহ্যাম গোলকিপার বার্ন্ড লিনো। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলার জোরালো ভলি টিমোথি ক্যাস্তানিয়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।
প্রথমার্ধে বেশ নড়বড়ে থাকা কস্তাস সিমিকাসকে বিরতির পরই তুলে নেন লিভারপুল কোচ ইরাওলা। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন মিলোস কারকেজ। এরপর ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরোতেই আরও দুটি পরিবর্তন করেন তিনি। রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও ভিক্টর মুনিয়োজের বদলে মাঠে নামেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোডি গাকপো।
আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করেন অ্যালেকজান্ডার ইসাক। তবে তাঁর শট সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন লিনো। কিছুক্ষণ পর ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের জোরালো শটও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ফুলহ্যাম গোলরক্ষক।
৭২তম মিনিটে রিও এনগুমোহা ও জেরেমি ফ্রিমপংকে একসঙ্গে মাঠে নামিয়ে জয়ের শেষ চেষ্টা চালান স্বাগতিক কোচ। তবে তাতেও ম্যাচের অচলাবস্থা কাটেনি।
যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে পাওয়া বলে ইসাক হেড নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে উল্টো জশ কিং ও কেভিনের সৌজন্যে সুযোগ তৈরি করে ফুলহ্যামও। শেষ পর্যন্ত জমাট রক্ষণ ধরে রেখে অ্যানফিল্ড থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
জ/উ