চেলসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক এক দিন আগে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন হাল সিটির ফুটবলার সোরবা থমাস। তবে দুর্ঘটনায় গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অক্ষত আছেন ওয়েলসের এই ফুটবলার। দুর্ঘটনার পর নিজেই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন ২৭ বছর বয়সী থমাস। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে কটিংহামের মিলহাউস উডস লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি হাল সিটির ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কাছেই।
দুর্ঘটনায় থমাসের ধূসর রঙের ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডারটি উল্টে যায়। গাড়িটির একটি জানালাও ভেঙে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাদানকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করে হাম্বারসাইড পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থমাসের গাড়ির ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলো দেখে তার সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও হাল সিটি পরে জানায়, ফুটবলারটির কোনো আঘাত লাগেনি।
এক বিবৃতিতে ক্লাবটি বলেছে, থমাসকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে তারা স্বস্তি পেয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে শনিবার চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলের সঙ্গে তাঁর ভ্রমণেও কোনো সমস্যা হবে না।
ঘটনার সময় দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এক নারী জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে নিচে নেমে তিনি দেখতে পান, একটি গাড়ি তার বাড়ির সীমানার ঝোপের মধ্যে ঢুকে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিছানায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি শব্দ শুনতে পান। এরপর নিচে গিয়ে দেখতে পান দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি বাড়ির সীমানার ঝোপের মধ্যে ঢুকে গেছে।
দুর্ঘটনার পর অবশ্য থমাসকে নিয়ে নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানায়নি হাল সিটি। ফলে দলের সঙ্গে তাঁর চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে যাওয়ার বিষয়টিও স্বাভাবিক রয়েছে।
সম্প্রতি হাল সিটিতে যোগ দিয়েছেন থমাস। ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিকে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। গোপন রাখা অর্থের বিনিময়ে হওয়া সেই চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। ওয়েলস জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন থমাস। কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে ওয়েলসের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
হাল সিটির ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কাছেই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি ঘিরে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও থমাস নিজে কোনো আঘাত পাননি। এখন তাঁর সামনে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার পালা।