জেলা সদরের ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি আর চালু হবে না। এ তথ্য হাসপাতাল সূত্রে জানার পর খোঁজখবর নেয়া শুরু করলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এক যুগেরও বেশি সময় আগে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতালে আগত রোগীদের সেবা প্রদানের নিমিত্তে এমআরআই মেশিনটি আমদানি করা হয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারের মাধ্যমে। কিন্তু হাসপাতালে এমআরআই মেশিনটি ইনষ্টল করার পর তা চালু করা সম্ভব হয় নাই। বছরের পর বছর মেশিনটি হাসপাতালে অকেজো পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে তা চালুর উদ্যোগ নেয় নাই।
এমআরআই মেশিন সম্পর্কে প্রথম দিকে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বলতো মেশিনটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় যে হিলিয়াম গ্যাসের প্রয়োজন হয় তা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরবরাহ না করায় আমরা মেশিন চালাতে পারছিনা। এক পর্যায়ে হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা বলতে শুরু করলো মেশিনটি আর চালানো সম্ভব নয়।
এমআরআই মেশিনটি চালানো সম্ভব না হলে অযথা ফেলে রেখে কি লাভ তা জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ জেলা সদরের ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি সুদীর্ঘকাল যাবৎ পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। আমরা বারবার উপর মহলে লেখালেখি করেও কোনো লাভ হয়নি। ফান্ডের অভাবে আমরা ওই মেশিন চালানোর জন্য হিলিয়াম গ্যাসসহ সামান্য কিছু উপকরণ ক্রয় করতে পারছিনা। হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি চালু করা হলে সাধারন রোগীরা উপকৃত হতো। অথচ মেশিনটা বছরের পর বছর ব্যবহার না করায় যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার সাধারন রোগী। এমআরআই মেশিনটি চালু না থাকায় গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলার সাধারন রোগীরা খুলনা,ফরিদপুর বা ঢাকা যেতে বাধ্য হচ্ছে। ওইসব স্থানে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যায়ের পাশাপাশি রোগীরা টানা হেচড়ার শিকার হচ্ছেন।
এদিকে গোপালগঞ্জ ৫০০ বেড বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দীর্ঘদিন আগে চালু হলেও সেখানে এমআরআই মেশিন আসে নাই। এধরনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন স্থাপন না করায় স্বাস্থ্য সেবা কতোখানি নিশ্চিত করা যাচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার।
গোপালগঞ্জ ৫০০ বেড বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা.নেওয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, রোগী সেবা নিশ্চিত করতে এমআরআই মেশিনের বিকল্প কিছু নেই। মেশিনটি আনার জন্য আমরা উপরমহলে আবেদন করেছি। তবে এখনও মেশিনটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেনি। গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অনেক চেষ্টার পর অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ পেয়েছে রিপেয়ার করার জন্য। আরও কমপক্ষে দশ-বারোদিন লাগবে সিটিস্ক্যান মেশিনটি চালু হতে।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ৫০০ বেড বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ বেড বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতাল জেলাবাসীসহ প্রতিবেশী জেলাসমুহের মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবামুলক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বলে বিবেচিত। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে এমআরআই মেশিনসহ অন্যান্য জরুরী মেশিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকা দরকার। সাধারন রোগীরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সেজন্য এ দুটি হাসপাতালের এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সর্বদা সচল রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। ওই দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত মন্ত্রনালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনষ্ট যন্ত্রপাতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপেয়ার করে রোগী সেবা প্রদান নিশ্চিত করা। এখানে আমার কিছুই করার নেই।
জ/বা