আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে নানা সমীকরণ নিয়ে ভাবছে বিএনপি। এই দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে চলছে হিসাব-নিকাশ। দলীয়ভাবে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে চায় দলটি। শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে উঠছে দলের মনোনয়ন, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়রের বিকল্প হিসেবে দুই সিটিতেই দুই দফায় প্রশাসক বসানো হলেও শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। নগরীর ভোগান্তি দূর করতে বাসিন্দারা দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চান। তেমনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের মতে, নগরবাসীর সুখে-দুঃখে যিনি সর্বদা পাশে থাকবেন এবং যার অতীতে দল ও জনগণের জন্য অবদান রয়েছে, তেমন কোনো নিবেদিতপ্রাণ নেতাকেই দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে।
এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন।
বিএনপির কয়েক জন নীতিনির্ধারক বলছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দুই সিটিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি এমন নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন। আবার মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচনে জয় পাননি এমন নেতারাও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়। প্রার্থীরা দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতাদের কাছে তাদের আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন যারা
ঢাকা উত্তর সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা।
এছাড়া ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও রয়েছেন আলোচনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। অনেকের ধারনা কারণ ঢাকা উত্তর সিটিতে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে মনোনীত করবে বিএনপি এজন্যই তাকে প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুমও আলোচনায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন যারা
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দলের দুঃসময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে সামনের সারিতে ছিলেন। আওয়ামী সরকারের আমলে অন্তত ৪৫০টি মামলার আসামি হয়ে বারবার গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখে পড়েও রাজপথ ছেড়ে যাননি। বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে নেওয়ার দিনটিতে রাজপথে থেকে দলের নেতা-কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোহেল। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইশরাক হোসেন। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়াজ শুরু হওয়ায় এখানে মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এনপিবি নিউজকে বলেন, যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রার্থী করবে বিএনপি। তবে তরুণ ও মধ্য বয়সীরা আগামীদিনে বেশি গুরুত্ব পাবে। সিটি নির্বাচন বিএনপি গুরুত্বসহকারে করবে বলেও জানান দলের এই ভাইস চেয়ারম্যান।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হেসেন এনপিবি নিউজকে বলেন, সরকার বিভিন্ন গতিবিধি লক্ষ্য করছে, তবে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধন্ত হয়নি।