লামা উপজেলার ইটভাটায় পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্নের অভিযোগে অবশেষে ৫ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বান্দরবানের পরিবেশ অধিদপ্তর। সরেজমিনে তদন্তের প্রথম দিন এসব ইটভাটায় পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ইটভাটাগুলো হলো- উপজেলার ফাইতং ইউনিযনের ইউবিএন, ৪বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউও এনআরবি।
সূত্র জানায, গত ১০ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের পরিবেশ অধিদপ্তরের তিন সদস্যের একটি টিম ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা মালিকদের পাহাড় কাটার স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় পাঁচটি ব্রিকফিল্ডে ইটের কাঁচামাল তৈরির জন্য পাহাড় কাটার সত্যতা পান তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরো বলেন, লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখনো ওই আদেশের কপি পরিবেশ অধিদপ্তরে পৌঁছেনি। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, জনস্বার্থে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়া পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। রিটের শুনানিতে অংশগ্রহনকারী সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধি নিষেধ রয়েছে।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটার মালিকরা পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছেন। তাই আদালতের রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।