হেলিকপ্টারে চড়ে বাংলাদেশে এসে নিজের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর বাড়িতে ছুটে গেলেন সৌদি আরবের কফিল ও কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি। শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের দামলা গ্রামে তাঁর আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
সকালেই হেলিকপ্টারে করে দামলা গ্রামে পৌঁছান সৌদি নাগরিক মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি। তিনি কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির কর্ণধার মো. কাউছার মিয়ার নিজ বাড়িতে আসেন। একজন বিদেশি নাগরিককে হেলিকপ্টারে করে প্রত্যন্ত গ্রামে আসতে দেখে মুহূর্তেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
খবর পেয়ে সৌদি কফিলকে একনজর দেখতে দামলা গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও তাঁকে দেখতে ছুটে আসেন। এ সময় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে এলাকার মানুষের যোগাযোগ থাকলেও কোনো সৌদি নাগরিককে এভাবে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসতে দেখার ঘটনা তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী। ফলে সকাল থেকেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
এ সময় রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার বলেন, সৌদি আরবের একজন বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যবসায়িক সহযোগী হেলিকপ্টারে করে দামলা গ্রামে এসেছেন-এটি এলাকার মানুষের জন্য আনন্দ ও কৌতূহলের বিষয়। তাঁর আগমনে গ্রামের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
নিজ গ্রামে সৌদি কফিলকে নিয়ে আসার বিষয়ে কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির কর্ণধার মো. কাউছার মিয়া বলেন, সৌদি আরবের কফিল মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও কর্মসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশে এসে তাঁর গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। একজন সৌদি নাগরিক তাঁর নিজ গ্রামে এসে মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন-এটি তাঁর জন্যও অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
অন্যদিকে সৌদি আরবের কফিল ও কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির সিইও মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি বলেন, “আমি বেশ আনন্দিত ও উৎফুল্লিত। বাংলাদেশে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। এখানের মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ মনে হচ্ছে।”
তাঁর এই আগমনকে ঘিরে দামলা গ্রামের মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের অনেকেই সৌদি অতিথির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং তাঁকে স্বাগত জানান।
এদিকে হেলিকপ্টারে করে সৌদি কফিলের গ্রামে আগমনের দৃশ্য দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে দামলা গ্রামের পরিবেশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দিনভরই ছিল আলোচনা-কৌতূহল। বিদেশি একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে গ্রামের মানুষের এমন সরাসরি যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।