চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৬০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার স্বামী মফিজুল হক (৭৫)। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর-বাবুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মফিজুল হক ও মনোয়ারা বেগমের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মফিজুল ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর নিজ ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস দেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর মফিজুলের পুত্রবধূ শাপলা বেগম বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তিনি মনোয়ারার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তারা মনোয়ারার মরদেহ এবং মফিজুলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মফিজুল হক তার স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দেন।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জ/উ