আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-03T18:05:45+06:00
2026-09-03T18:05:45+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
ইরান যুদ্ধের চাপে অস্ত্রঘাটতি, সংকটে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম 
বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্র এখন অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঘটনায় দেশটির দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংকটটি শুধু কোনো একটি সামরিক অভিযানের ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মার্কিন সামরিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতাও সামনে আনছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদেও হোয়াইট হাউস ও সামরিক শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গিয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনে কমান্ড কাঠামোয় রদবদল ও উত্তেজনার যে মাত্রা তৈরি হয়েছে, তা বিরল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং একাধিক কমান্ডারের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার ঘটনায় সামরিক বাহিনীর স্থিতিশীলতা ও চেইন অব কমান্ড নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমন প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের চাপ সামলাতে হচ্ছে। মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগও সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় উদাহরণ। ওয়ার সেক্রেটারি পিট হেগসেথের সঙ্গে নীতিগত ও প্রশাসনিক মতবিরোধের জেরে ড্রিসকল পদ ছাড়তে বাধ্য হন। এ বিরোধের সঙ্গে সামরিক কমান্ড পরিচালনা এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তও যুক্ত ছিল।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাজনৈতিক কর্মকর্তা কিংবা কয়েকজন সামরিক কমান্ডারের বিদায়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও একটি সুশৃঙ্খল সামরিক কাঠামোয় নেতৃত্বের স্থায়িত্ব যুদ্ধক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অত্যাধুনিক বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাংকের পাশাপাশি কমান্ডারদের অভিজ্ঞতা, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ মার্কিন বাহিনীর ওপর সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। প্রযুক্তি, বিমান ও নৌশক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং লজিস্টিকসের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হলেও কোনো দেশের সামরিক সম্পদই সীমাহীন নয়।

হোয়াইট হাউস যুদ্ধটির প্রত্যক্ষ ব্যয় হিসেবে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব দেখালেও প্রকৃত আর্থিক ও কৌশলগত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন এবং পরবর্তী সময়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ব্যয় ওই হিসাবে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিসিশন মিউনিশন বা নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার মজুত নিয়ে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসার খবরে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অস্ত্র প্রস্তুত রাখলেই হয় না। ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও বড় ধরনের অস্ত্রভান্ডার প্রয়োজন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর সম্ভাব্য অন্য কোনো সংকটের জন্য সংরক্ষিত মজুতেও প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখতে হয়, তাহলে বিশ্বের অন্য প্রান্তে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ান ও পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেশ শুধু ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে না; সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কতসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রস্তুত রয়েছে এবং সেগুলো কত দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব-সেদিকেও নজর রাখে। ফলে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এখন সামরিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগেও পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর আরও চাপ নিতে, অস্ত্রের নতুন অর্ডার বাড়াতে এবং সামরিক মজুত পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানবসম্পদের ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ কমান্ডারদের বিদায় এবং যুদ্ধের মধ্যে চেইন অব কমান্ডে বারবার পরিবর্তন সামরিক বাহিনীর কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবে, যে যুদ্ধকে মার্কিন সামরিক শক্তির সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেটিই এখন দেশটির বৈশ্বিক সামরিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামরিক শক্তির প্রকৃত সক্ষমতা শুধু যুদ্ধ শুরু করার মধ্যে নয়; দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করা এবং একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যেও তা নিহিত।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দেশটির বৈশ্বিক কৌশল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। সূত্র: মেহের নিউজ

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]