সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা। আজ বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক এলাকা থেকে ৬ কেজি গাঁজা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ তাঁদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার রহমত আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ (৩৫) এবং তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ উত্তর বাঁধ এলাকার বাসিন্দা আফালের স্ত্রী আসমা খাতুন (৩১)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে অবৈধ মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে তাড়াশ পৌর সদরের হাসপাতাল গেট এলাকায় কিছু মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ মাদক হাতবদলের জন্য অবস্থান নিচ্ছে—এমন গোপন খবর পান স্থানীয় সচেতন তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীরা। খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর পৌর বিএনপি নেতা খন্দকার সাইফুল ইসলাম এবং যুবদল নেতা মিলন খানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অবস্থান নেন।
অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন যুবনেতা আমিন উদ্দিন, রয়েল হোসেন, আলভি, সুজন হোসেন এবং স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৌতূহলী ও সচেতন নাগরিক। তাঁরা সুকৌশলে হাসপাতাল গেট এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে হারুন অর রশিদ ও আসমা খাতুনকে তল্লাশি করা হলে তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে অবৈধ ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তৎপরতা ও মালামাল জব্দ ঘটনাস্থলেই মাদক কারবারিদের হাতেনাতে আটকে রাখার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াশ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই তাড়াশ থানার একটি ক্ষিপ্র পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে জব্দকৃত ৬ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করে। একই সাথে আটক দুই মাদক কারবারিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর জানান, স্থানীয় সচেতন জনতা ও নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ শেষ করে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি ইমাম জাফর বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এভাবে যদি সমাজের প্রতিটি স্তরের সচেতন মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এসে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তবে আমাদের সমাজ তথা পুরো দেশ থেকে খুব দ্রুত ও কার্যকরভাবে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।
এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে তাড়াশের সচেতন নাগরিক ও বিএনপির এই তাৎক্ষণিক ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
জ/বা