ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আত্মীয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার খবর পেয়ে বীরভূমের রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত ওই যুবতীর নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। পরিবারের দাবি, মানসিক অবসাদের কারণে বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশেরও একই ধারণা। এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, আজ মঙ্গলবার বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। ঘরের সিলিং ফ্যানে সাদা রঙের একটি ধুতি বাঁধা ছিল এবং সেটির সঙ্গে ফাঁস অবস্থায় ছিল বৃষ্টির গলায়।
২০২৩ সালের মার্চে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এসএসসির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বৃষ্টির চাকরি বাতিল হয়। তিনি বোলপুর হাইস্কুলের করণিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় বৃষ্টির বাবা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহাররঞ্জন দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন এবং নিজের যোগ্যতাতেই চাকরি পেয়েছিলেন। মেয়ের চাকরির জন্য তিনি কোথাও বা কোনোভাবে তদবির করেননি বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
চাকরি বাতিলের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি আদালতে বৃষ্টির বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও শুরু হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলেন তিনি।
কুসুম্বার মুখোপাধ্যায় পরিবারের এক সদস্য জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য, ‘ও ডিপ্রেশনের রোগী। গত চার-পাঁচ বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিল। ডাক্তার দেখানো হচ্ছিল। ওষুধপত্রও খাচ্ছিল।’
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: আনন্দবাজার
জ/উ