কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা অসুস্থতা-বিভিন্ন কারণে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবার কখনো কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ভালো ঘুম অধরা থেকে যায়। ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো সব কারণ নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব।
ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলুন
প্রতিদিন ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বেশিরভাগ মানুষের ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিছানায় আট ঘণ্টার বেশি থাকার প্রয়োজন হয় না। সপ্তাহান্তসহ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্রকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করে।
বিছানায় যাওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিটেও ঘুম না এলে শোবার ঘর থেকে বের হয়ে শান্ত কোনো কাজ করা যেতে পারে। বই পড়া কিংবা প্রশান্তিদায়ক কিছু শোনা যেতে পারে। ঘুম ঘুম ভাব এলে আবার বিছানায় ফিরে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে এই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে, তবে ঘুমানোর ও জেগে ওঠার নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখা জরুরি।
খাবার ও পানীয়ের বিষয়ে সচেতন থাকুন
খুব ক্ষুধার্ত বা অতিরিক্ত পেট ভরা অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারী বা বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া ঠিক নয়। এতে অস্বস্তি তৈরি হয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
নিকোটিন, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নিকোটিন ও ক্যাফেইনের উত্তেজক প্রভাব কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে, যা ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে অ্যালকোহল শুরুতে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করলেও রাতের পরের অংশে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ঘুমের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন
শোবার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত আলোর সংস্পর্শে এলে ঘুমিয়ে পড়া কঠিন হতে পারে। ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় আলোযুক্ত স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো।
নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী রুম-ডার্কেনিং শেড, ইয়ারপ্লাগ, ফ্যান বা অন্য কোনো উপযোগী ডিভাইস ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘুমের আগে উষ্ণ পানিতে গোসল কিংবা রিলাক্সেশন টেকনিকের মতো শান্তিদায়ক কাজও ঘুমাতে সহায়ক হতে পারে।
দিনের ঘুম সীমিত রাখুন
দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই দিনের ঘুম এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখা এবং দিনের শেষভাগে ঘুমানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে যারা রাতে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি পূরণে কাজ শুরুর আগে দিনের শেষ দিকে কিছু সময় ঘুমানোর প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
প্রতিদিন নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুমানোর একেবারে কাছাকাছি সময়ে অতিরিক্ত শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকাই ভালো। পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুটা সময় বাইরে কাটানোও ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে।
দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ঘুমাতে যাওয়ার আগে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার বিষয়গুলো সামলানোর চেষ্টা করুন। মনে থাকা বিষয়গুলো কাগজে লিখে রাখতে পারেন এবং পরবর্তী দিনের জন্য সেগুলো আলাদা করে রাখুন। এতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
দিনের কাজগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এসব অভ্যাস নিয়মিতভাবে মেনে চললে ঘুমের সময় ও মান দুটিই উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।
জ/উ