ফল ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও নানা পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ফল রাখেন। তবে ফল খাওয়ার সেরা সময় খাবারের আগে, নাকি পরে-এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মত রয়েছে।
বৈজ্ঞানিকভাবে ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ‘সেরা সময়’ প্রমাণিত হয়নি। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের আগে, সঙ্গে বা পরে ফল খাওয়া যায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীর ফলের ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা হজম ও শোষণ করতে পারে।
ফল খাবারের আগে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেলে এর ফাইবার ও পানির কারণে অনেকের পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। আবার খাবারের পর ফল খাওয়াও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অস্বস্তির সমস্যা থাকলে খালি পেটে ফল খাওয়ার বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নেই। কোন সময়ে ফল খেলে স্বস্তি পাওয়া যায়, তা ব্যক্তিভেদে বিবেচনা করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া। মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখা এবং ফলের রসের বদলে আস্ত ফল খাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। কারণ আস্ত ফলে ফাইবার বেশি থাকে এবং তা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ফল পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণ ও মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৩ সালের এক গবেষণায় ফল খাওয়ার সময় রক্তে শর্করা ও পেট ভরা থাকার অনুভূতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সকালের নাশতার ৯০ মিনিট আগে, ৩০ মিনিট আগে, নাশতার সঙ্গে এবং ৩০ মিনিট পরে কিউই ফল খাওয়ানো হয়।
গবেষকেরা দেখতে পান, সিরিয়ালের কিছু অংশের পরিবর্তে ফল খেলে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষুধা না বাড়িয়ে রক্তে শর্করার সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় প্রধান খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ফল খাওয়ালে। শুধু সিরিয়াল খাওয়ার তুলনায় এভাবে ফল খেলে রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
অন্যদিকে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের ৩০ মিনিট পরে ফল খেলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে একই মাত্রার সুবিধা পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, খাবারের ঠিক আগে ফল খেলে এর প্রাকৃতিক অ্যাসিড ও ফাইবার পরবর্তী খাবারের কার্বোহাইড্রেট হজমের গতি ধীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ফল ৯০ মিনিট আগে খেলে শরীর ফল ও পরবর্তী খাবারকে অনেকটাই আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে খাবারের আগে ফল খাওয়ার যে সম্ভাব্য উপকার পাওয়া গেছে, তা একইভাবে নাও মিলতে পারে।
গবেষণাটির ফল অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে চাইলে প্রধান খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ফল খাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের আগে বা পরে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর কোনো নিয়ম নেই; ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
জ/উ