জবাবদিহি ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-08-22T02:56:05+06:00
2026-08-22T02:56:05+06:00
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
লাইফ স্টাইল
কত মাস বয়সে শিশুকে ডিম দেওয়া নিরাপদ, কী সর্তকতা জরুরি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
শিশুর খাবারের তালিকায় ডিম বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই শিশুর বাড়তি খাবার শুরু করার সময় অনেক বাবা-মায়ের প্রশ্ন থাকে, কত মাস বয়সে ডিম দেওয়া যাবে, কীভাবে শুরু করতে হবে এবং ডিমে অ্যালার্জি হলে কীভাবে বুঝবেন।

বিশেষজ্ঞদের বর্তমান পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর বয়স প্রায় ৬ মাস হলে এবং সে বাড়তি খাবারের জন্য প্রস্তুত থাকলে ডিম দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। ডিম দেওয়ার জন্য ৮ বা ৯ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং শিশুর খাবারে ডিমসহ সম্ভাব্য অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এমন খাবার খুব দেরি না করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শিশুর বয়সের পাশাপাশি সে বাড়তি খাবার খাওয়ার জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর জন্মের পর প্রথম প্রায় ছয় মাস সাধারণত মায়ের দুধই প্রধান খাবার। প্রায় ৬ মাস বয়সে বাড়তি খাবার শুরু করার সময় আসে। তবে শুধু বয়স ছয় মাস হলেই হবে না। শিশুকে খাবার দেওয়ার আগে কয়েকটি প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা দরকার। যেমন-

শিশু নিজে বা সামান্য সহায়তায় মাথা ও ঘাড় স্থির রাখতে পারে, বসার সময় মাথা ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে, খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়, খাবার মুখে দেওয়ার পর বারবার বাইরে ঠেলে না দিয়ে গিলতে পারে, অন্যরা খাওয়ার সময় খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়, এসব লক্ষণ থাকলে বাড়তি খাবার শুরু করার উপযুক্ত সময় হতে পারে।

ডিমে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে কোলিন রয়েছে। শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে কোলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তবে ডিমকে শিশুর একমাত্র পুষ্টির উৎস হিসেবে দেখা যাবে না। ছয় মাসের পর শিশুর খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার ধীরে ধীরে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে প্রথমবার ডিম দেওয়ার সময় পুরো ডিম ভালোভাবে রান্না করে নরম করে দিন। ডিম সেদ্ধ, ভাজি বা স্ক্র্যাম্বল করে নরম অবস্থায় দেওয়া যেতে পারে। প্রথমবার অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই ভালো। যেমন ভালোভাবে রান্না করা ডিমের সামান্য অংশ নরম করে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। শিশু সহজে খেতে পারলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো যায়।

ডিমের টুকরা দিলে শিশুর বয়স ও খাওয়ার দক্ষতা অনুযায়ী টুকরার আকার ও নরমত্ব ঠিক করতে হবে। ছোট ও শক্ত টুকরা শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাবারটি এমন নরম হওয়া দরকার, যাতে সহজে চটকে দেওয়া যায়।

ডিমের সাদা অংশেও প্রোটিন রয়েছে এবং ডিমের অ্যালার্জি সাদা অংশের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হলেও, বর্তমান পরামর্শ হলো অ্যালার্জির আশঙ্কায় ডিমের সাদা অংশ দীর্ঘদিন বাদ না রাখা। শিশুর বাড়তি খাবার শুরু করার সময় পুরোপুরি রান্না করা ডিম পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বরং অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দেরি না করে নিরাপদভাবে ডিম পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ডিম শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এমন পরিচিত খাবারগুলোর একটি।

প্রথমবার ডিম দেওয়ার পর তাই শিশুকে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালার্জির লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে ত্বকে লালচে দাগ বা চাকা, চুলকানি, ঠোঁট/ মুখ বা চোখ ফুলে যাওয়া, বমি, ডায়রিয়া এবং কাশি বা শ্বাস নিতে সমস্যা।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে ডিম খাওয়ানো বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি ব্যবস্থা নিন। শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, গলা বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, হঠাৎ খুব দুর্বল হয়ে পড়া বা একসঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে এটি মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। 

কারণ ডিম খাওয়ার পর কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তখন কোন খাবার থেকে সমস্যা হয়েছে, তা বোঝা কঠিন হতে পারে। তাই নতুন খাবার একবারে একটি করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সুবিধাজনক। শিশুর খাবারে আগে থেকেই পরিচিত খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ডিম মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

যদি শিশুর আগে কোনো খাবারে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তীব্র একজিমা থাকে বা পরিবারের অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তাহলে ডিম প্রথমবার দেওয়ার আগে শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। বিশেষ করে গুরুতর একজিমা বা আগে কোনো খাবার খেয়ে তাৎক্ষণিক অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে বাড়িতে নিজের মতো করে নতুন অ্যালার্জেন খাবার শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি নিরাপদ।

ডিম ভালোভাবে রান্না করলে সালমোনেলা নামের ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় খাবার নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। তাই ডিমের সাদা ও কুসুম দুটোই জমাট হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করে শিশুকে খাওয়ানো উচিত।

ডিম কীভাবে শিশুর খাবারে মেশাবেন? শিশুর বয়স ও খাবার খাওয়ার দক্ষতা অনুযায়ী ডিম বিভিন্নভাবে দেওয়া যায়। সেদ্ধ ডিম: ভালোভাবে সেদ্ধ করে চটকে সামান্য পানি, মায়ের দুধ বা শিশুর পরিচিত নরম খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়। ডিমের ভাজি: অল্প তেলে বা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ছাড়া ভালোভাবে রান্না করে নরম করে দেওয়া যায়। ডিম ও সবজি: আগে পরিচিত ও নরম করে রান্না করা সবজির সঙ্গে ভালোভাবে রান্না করা ডিম মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ডিমের নরম প্যানকেক: ডিম ও শিশুর উপযোগী অন্য উপাদান দিয়ে নরম করে রান্না করা খাবার তৈরি করা যায়।

তবে খাবারে লবণ, চিনি বা অতিরিক্ত মসলা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এক বছরের কম বয়সী শিশুর খাবারে মধুও দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে বটুলিজমের ঝুঁকি থাকে। শিশুর জন্য প্রতিদিন ঠিক কতটা ডিম খেতে হবে, এমন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। শিশুর বয়স, ক্ষুধা, অন্যান্য খাবার এবং মোট পুষ্টির চাহিদার ওপর পরিমাণ নির্ভর করে। শুরুতে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। শিশু স্বাভাবিকভাবে খেতে পারলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো যায়।

একবার ডিম খেয়ে কোনো সমস্যা না হলে শিশুর নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে ডিম রাখা যেতে পারে। কিডস ইট ইন কালারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এমন খাবার একবার পরিচয় করিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সময় বাদ না দিয়ে নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ছয় মাসের পর শুধু ডিম বা কোনো একটি খাবারের ওপর শিশুর পুষ্টি নির্ভর করা উচিত নয়।

শিশুর খাবারে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের খাবার যুক্ত করা দরকার। যেমন: ভাত বা অন্যান্য শস্য জাতীয় খাবার, ডাল, মাছ বা মাংস, ডিম, নরম করে রান্না করা সবজি, ফল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি (অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, ডিম, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার/ full fat milk, স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছ এবং বাদাম বা বীজ)।

আগে অনেক বাবা-মা অ্যালার্জির ভয় থেকে শিশুকে ডিম বা অন্যান্য অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এমন খাবার দিতে দেরি করতেন। কিন্তু বর্তমান গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে দেখা যাচ্ছে, অকারণে এসব খাবার অনেক দেরিতে শুরু করার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে শিশুর বাড়তি খাবার শুরু করার বয়সে ডিমের মতো অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এমন খাবার নিরাপদভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শিশুকে একই নিয়মে ডিম খাওয়াতে হবে। শিশুর স্বাস্থ্য, অ্যালার্জির ইতিহাস এবং খাবার খাওয়ার দক্ষতা অনুযায়ী পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

শিশুর বয়স প্রায় ৬ মাস হলে এবং বাড়তি খাবারের জন্য প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা গেলে ডিম তার খাবারের তালিকায় যোগ করা যেতে পারে। ডিম ভালোভাবে রান্না করে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। প্রথমবার দেওয়ার পর শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না, তা লক্ষ্য করুন।

ডিমের কারণে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর শিশুর আগে থেকেই গুরুতর একজিমা, খাবারে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে ডিম শুরু করার আগে শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডিম শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার হলেও নিরাপদভাবে, বয়স ও খাওয়ার সক্ষমতা অনুযায়ী এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের অংশ হিসেবে দেওয়া।

তথ্যসূত্র:কিডস ইট ইন কালার





Advertisement
Loading...
Loading...
লাইফ স্টাইল - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]