খন্দকার হানিফ রাজা

জাতীয়

2026-09-01T19:14:46+06:00
2026-09-01T19:14:46+06:00
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
১০ বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ১,০১২ কোটি টাকা ব্যয়, তবু থামছে না ডেঙ্গু
রাজধানীর বাইরে খুলনায় ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টে রোগী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ
খন্দকার হানিফ রাজা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম 
বর্ষার শেষভাগে এসে ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বছরের পর বছর মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয়, নানা ধরনের অভিযান ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন নেই। বরং আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন; মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। একদিনেই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৬০ জন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেও এডিস মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ থাকায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম এখনো অনেকটাই ওষুধ ছিটানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্বল্পমেয়াদি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-নির্ভর।

মশা নিয়ন্ত্রণে গত এক দশকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলে ব্যয় করেছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ডিএনসিসির ব্যয় প্রায় ৬৮৮ কোটি এবং ডিএসসিসির প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরেও মশা নিয়ন্ত্রণে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিপুল এই ব্যয়ের পরও রাজধানীতে এডিসের বিস্তার থামানো যাচ্ছে না।

ডিএসসিসির প্রাক্-বর্ষা জরিপেও মিলেছে উদ্বেগজনক চিত্র। ৭৫টি ওয়ার্ডের ৬৩টিতে এডিসের ঘনত্ব স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি এবং ২৭টি ওয়ার্ড উচ্চঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জরিপ করা ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টিতে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা বা পিউপা। বহুতল ভবনে প্রজননের হার সবচেয়ে বেশি।

তবে রাজধানীর বাইরের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে খুলনায়। আগস্টে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৮০০ জন, যেখানে জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৫২। অর্থাৎ এক মাসে রোগী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। একই সময়ে মৃত্যুও বেড়েছে—জুলাইয়ের পাঁচজন থেকে আগস্টে ১২ জন।

রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার পেছনে হটস্পটভিত্তিক কার্যক্রমের ঘাটতি, প্রজননস্থল ধ্বংসে দুর্বলতা এবং রাসায়নিকনির্ভর পদ্ধতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু ফগিং বা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর দিতে হবে।

নগরবাসীর অভিযোগ, রোগী বাড়লেই সিটি করপোরেশনের অভিযান দৃশ্যমান হয়; কিন্তু নালা-নর্দমা, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ কিংবা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণে নিয়মিত নজরদারি নেই। ফলে একদিকে মশার বিস্তার বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক। সিটি করপোরেশনগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস ও ওষুধ প্রয়োগ নিয়মিত চলছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় বিশাল নগরের সব এলাকায় সমানভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ডেঙ্গুকে কেবল মৌসুমি সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। বছরজুড়ে তথ্যভিত্তিক নজরদারি, ওয়ার্ডভিত্তিক হটস্পট ব্যবস্থাপনা, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। রোগী বাড়ার পর তৎপরতা নয়, বরং সংক্রমণের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হতে পারে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পথ।

রাজধানীর বাইরে খুলনাতেও আগস্টে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি ছিল স্পষ্ট। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যেখানে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ২৫২ জন, আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০০-তে—অর্থাৎ এক মাসে রোগী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। একই সময়ে মৃত্যুও পাঁচ থেকে বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। শুধু আগস্টেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি খুলনায় ডেঙ্গুর নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৮৪৮ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন, চিকিৎসাধীন ৭৬০ জন এবং মারা গেছেন ২০ জন। এ সময় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে খুলনা জেলায়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই এ বছর ১ হাজার ৩৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আগস্টে রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।


জ/বা





  বিষয়:   জাতীয়  ডেঙ্গু  সিটি করপোরেশন 



Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]