জবাবদিহি ডেস্ক

শিক্ষা

2026-09-01T17:20:15+06:00
2026-09-01T17:20:15+06:00
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ক্লিন-গ্রিন ক্যাম্পাস’ করার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ পিএম 
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও সামগ্রিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একই সঙ্গে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

রুয়েটের শান্ত ও সবুজ পরিবেশের প্রশংসা করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাসকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশে গবেষণার জন্য অর্থের সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেটে গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম এবং বরাদ্দের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি গবেষণায় বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে ইউজিসি একটি সমন্বিত গবেষণা রিপোজিটরি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কোন বিষয়ে এবং কী ধরনের গবেষণা প্রয়োজন, কোথায় কী গবেষণা হয়েছে এবং সেসব গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব-এসব তথ্য রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ করা হবে। এতে একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

সমন্বিত গবেষণা তথ্যভান্ডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই সমাধান দিতে পারে। গবেষণার ফলাফল যেন কেবল গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে কাজে লাগে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু প্রকাশনা, সাইটেশন কিংবা ব্যক্তিগত গবেষণা-প্রোফাইল সমৃদ্ধ করা নয় বলে মন্তব্য করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তার মতে, গবেষণার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান। দেশের ছোট-বড় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান।

রুয়েটে গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি ওঠার বিষয়টির প্রশংসা করেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, সাধারণত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি বেশি গুরুত্ব পায়। তবে রুয়েটে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যা ইতিবাচক। গবেষণাগার স্থাপন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং গবেষণার সুযোগ বাড়াতে ইউজিসি সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া নয়। জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার মান ও একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও দায়িত্বশীল সম্পর্কের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক ভালো ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের উচ্চ নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও গড়ে উঠতে হবে। প্রযুক্তির জ্ঞান মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে রুয়েট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় ইউজিসির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মেকানিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, সিভিল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের জিলানী।

স্বাগত বক্তব্য দেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]