জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি পরিশোধ করে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। এর মধ্যে ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সও হালনাগাদ করার সুযোগ থাকবে।
গ্রাহকদের শেষবারের মতো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ।
এর আগে পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।
বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী কোনো মোটরযান বিক্রয়ের পর এর মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক ও মহাসড়কে চালাচ্ছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে বিভিন্ন ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালিকানা পরিবর্তন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মোটরযানের বিপরীতে নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পুরোনো মালিককেই পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে বিক্রেতাদের অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
মালিকানা পরিবর্তনের সেবা সহজ ও দ্রুত করার বিষয়েও তথ্য দিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মোটরযান মালিক ও ক্রেতাদের দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় নিয়ম না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কার্যকর করতে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সে পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু করেছে বিআরটিএ।
সংস্থাটি জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১১(১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড কিংবা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।
জ/উ