নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ৬৭০ জন এবং চীনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাতে নেপালে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেগুলো সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতেও সমস্যায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষ ধ্বংস হয়ে যাওয়া বসতিতে ফিরে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজছেন। অন্যদিকে স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গে গিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।
ভয়াবহ এই বন্যায় নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল ও ক্ষতিগ্রস্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানবিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে নেপালের বন্যাকবলিত এলাকার কাছের একটি নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, রসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সূত্র: সিএনএন
জ/উ