যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবরোধের মধ্যেও জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের আয় করেছে ইরান। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি করে দেশটি ৭৫০ কোটি ডলার আয় করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফার্স ইরানের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, তেল বিক্রির এই অর্থ দিয়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় করা ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও তারা বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছে।
এমন সময়ে তেল বিক্রির এই হিসাব সামনে এলো, যখন মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি খুলে দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে আসছে।
যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ওয়াশিংটন ওই সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না তেহরান।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাবই নেই। তাদের কী বলব, সত্যিই আমি জানি না। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি এবং যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতি আমাদের মেনে নিতে হবে।’
জ/উ