ফিচার ডেস্ক

ফিচার

2026-08-12T10:22:51+06:00
2026-08-12T10:22:51+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
আকাশ পেরিয়ে চাঁদের বুকে ‘মানুষের উল্কা’
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ এএম 
মহাকাশের নীরবতায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেসে বেড়াচ্ছিল একটি পরিত্যক্ত রকেটের অংশ। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ-চাঁদ। গত ৫ আগস্ট ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ। প্রচণ্ড সেই সংঘর্ষে চাঁদের মাটিতে তৈরি হয়েছে নতুন একটি গর্ত।

ঘটনাটি শুধু মহাকাশের আরেকটি সংঘর্ষের খবর নয়। কারণ, এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি মহাজাগতিক আঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন, যার ‘অপরাধী’ উল্কা নয়, মানুষের তৈরি একটি বস্তু। সংঘর্ষের আগে ও পরের ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি মহাকাশবিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

চাঁদের বুকে ধাক্কার সেই মুহূর্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি চন্দ্রযান চাঁদের ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের আগে ও পরের ছবি ধারণ করে। ছবিতে রকেটের অংশ আছড়ে পড়ার পর চাঁদের পৃষ্ঠে তৈরি হওয়া গভীর গর্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

চাঁদের বিশাল পৃষ্ঠের তুলনায় এই ক্ষত খুবই ছোট। কিন্তু ঘটনাটির তাৎপর্য অন্য জায়গায়। মহাকাশে মানুষের পাঠানো যন্ত্রপাতি ও পরিত্যক্ত অংশ ক্রমেই জমা হচ্ছে। পৃথিবীর কক্ষপথে স্পেস ডেব্রিস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা থাকলেও চাঁদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের বর্জ্য যে ভবিষ্যতে নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে, ফ্যালকন ৯-এর এই ঘটনা সেটিই সামনে এনেছে।

তিন টন টিএনটির মতো বিস্ফোরণ
বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, চাঁদের মাটিতে আঘাত করা ফ্যালকন ৯-এর অংশটির ওজন ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯ ফুট। ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে সেটি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার সময় যে বিপুল শক্তি তৈরি হয়, তা প্রায় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য।

এই আঘাতে আনুমানিক ২৭ মিটার প্রশস্ত ও ৫ মিটার গভীর একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘর্ষের অভিঘাতে আশপাশের পাথর ও ধূলিকণাও ছিটকে পড়ে। ফলে ওই এলাকার চাঁদের পৃষ্ঠ আগের তুলনায় কিছুটা অন্ধকার দেখাচ্ছে।

তবে গর্তটির প্রকৃত আকার ও সংঘর্ষের বিস্তারিত প্রভাব জানতে আরও তথ্যের প্রয়োজন। নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটারের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি বিশ্লেষণ করা হলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এবার গবেষণার সুযোগও তৈরি হলো
মহাকাশের কোনো বস্তু চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়া নতুন ঘটনা নয়। বরং প্রতিবছর অসংখ্য উল্কা চাঁদের মাটিতে আঘাত করে। কিন্তু সেসব উল্কার আকার, ভর, গঠন কিংবা গতিবেগ সম্পর্কে আগে থেকে নির্ভুল তথ্য জানা থাকে না। ফলে সংঘর্ষের পর তৈরি হওয়া গর্ত বিশ্লেষণ করলেও আঘাতকারী বস্তুর বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনেকটাই অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হয়।

ফ্যালকন ৯-এর ঘটনাটি সেই জায়গায় ব্যতিক্রম। কারণ, যে বস্তুটি চাঁদের মাটিতে আঘাত করেছে, তার ওজন, আকার ও উপাদান সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আগে থেকেই তথ্য রয়েছে। ফলে সংঘর্ষের শক্তি এবং এর পরিণতি তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

অর্থাৎ মানুষের তৈরি একটি পরিত্যক্ত রকেটের অংশ এবার চাঁদের জন্য যেমন নতুন একটি ক্ষত তৈরি করেছে, তেমনি বিজ্ঞানীদের জন্য খুলে দিয়েছে মহাকাশীয় সংঘর্ষ বোঝার একটি বাস্তব গবেষণার দরজা।

চাঁদের বুকে মানুষের ‘ছাপ’ নতুন নয়
চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ আছড়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও মানুষের তৈরি মহাকাশযানের অংশ চাঁদের মাটিতে আঘাত করেছে।

২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট-১ স্যাটেলাইট চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে। এরপর ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশও চাঁদে আঘাত হানে। এসব ঘটনাতেও চাঁদের মাটিতে নতুন গর্ত তৈরি হয়েছিল।

তবে ফ্যালকন ৯-এর এই ঘটনা নতুন করে একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে-মানুষ যখন চাঁদে স্থায়ীভাবে ঘাঁটি স্থাপন, গবেষণা ও বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সেখানে ফেলে যাওয়া মহাকাশযানের অংশ ও অন্যান্য বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হবে?

চাঁদের মাটিতে তৈরি হওয়া ২৭ মিটারের গর্তটি হয়তো মহাজাগতিক হিসেবে খুব ছোট। কিন্তু মানুষের মহাকাশ অভিযানের পরিধি যত বাড়ছে, এই ছোট গর্তই হয়তো ভবিষ্যতের বড় এক আলোচনার সূচনা হয়ে থাকবে।

জ/উ






Loading...
Loading...
ফিচার - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]