খুলনা, প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-08-22T19:52:09+06:00
2026-08-22T19:52:09+06:00
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
পিংক বাসের স্টিয়ারিংয়ে ফুলতলার সুপ্রিয়া
খুলনা, প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম 
এমবিএ শেষ করে প্রচলিত চাকরি নয়, নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের সারথি খুলনার সুপ্রিয়া কুন্ডু। এমবিএ শেষ করে অনেকের স্বপ্ন থাকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি কিংবা আরামদায়ক কোনো পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু খুলনার ফুলতলার মেয়ে সুপ্রিয়া কুন্ডুর স্বপ্নটা ছিল একটু ভিন্ন। চার দেয়ালের অফিস নয়, তার স্বপ্ন ছিল বড় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো।

সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন সুপ্রিয়া। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডাবল ডেকার ‘পিংক’ মহিলা বাসের চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন নারী হয়ে বড় বাসের স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিয়ে প্রতিদিন ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যাত্রী পরিবহন করছেন তিনি। আর এই পথচলাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে নয়, আত্মনির্ভরশীলতার এক সাহসী উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন। 

খুলনার আজম খান কমার্স কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন সুপ্রিয়া। এরপর প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে ভর্তি হন খুলনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি)। সেখানেই শুরু হয় ড্রাইভিং শেখার যাত্রা। পরে বিআরটিসির বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে বড় বাস চালনায় দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। 

প্রশিক্ষণের সময় মিরপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলীর ব্যস্ত সড়কে বাস চালানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সুপ্রিয়া। শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। বিশাল বাস, ব্যস্ত সড়ক, যানজট আর চারপাশের মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি-সবকিছুকেই সামলাতে হয়েছে তাকে। তবে নিজের ওপর বিশ্বাস আর শেখার আগ্রহ তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। 

সুপ্রিয়ার ভাষায়, শুরুতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সহকর্মী, ট্রাফিক সার্জেন্ট ও প্রশাসনের সহযোগিতা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এখন স্টিয়ারিং হাতে বড় বাস চালানো তার কাছে আর ভয়ের নয় বরং এটি তার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক। নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারাটাই সুপ্রিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার কাছে পিংক বাসের প্রতিটি যাত্রা যেন নিজের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার গল্প। 

মেয়ের এমন ব্যতিক্রমী পেশা বেছে নেওয়া নিয়ে শুরুতে উদ্বিগ্ন ছিলেন সুপ্রিয়ার মা। বড় গাড়ি চালানোর মতো কঠিন পেশায় মেয়েকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই উদ্বেগ বদলে গেছে গর্বে। মেয়ের সাহস, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরশীলতায় এখন পরিবারের সবাই আনন্দিত। 

মহিলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার প্রিন্সিপাল মির্জা ফিরোজ হাসান বলেন, সুপ্রিয়া কুন্ডু প্রশিক্ষণ কালে অতন্ত্য পরিশ্রমী সময় অনুবর্তিতা ও মেধার সাথে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন এবং বিআরটি এ লাইসেন্স প্রাপ্ত হন। নারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে সুপ্রিয়া কুন্ডুর এ অর্জন প্রশংসার। মহিলা টিটিসি খুলনার এ রকম হাজারো সুপ্রিয়া কুন্ডু তৈরির জন্য ২০০৭ সাল হইতে এখন পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। মহিলা টিটিসি খুলনার পক্ষ হইতে সুপ্রিয়া কুন্ডু জন্য রইল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

বিআরটিসির ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানও সুপ্রিয়ার প্রশংসা করেছেন। তার ভাষ্য, সুপ্রিয়া একজন দক্ষ চালক ও প্রশিক্ষক। বর্তমানে বিআরটিসি আরও ২০০ নারী প্রশিক্ষণার্থীকে ড্রাইভিংয়ের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে নারীদের জন্য পরিবহন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সুপ্রিয়ার গল্প শুধু একজন নারী বাসচালকের গল্প নয়, এটি স্বপ্নকে সাহসে পরিণত করার গল্প। তার হাতে থাকা স্টিয়ারিং যেন প্রতিদিন বলে-সুযোগ পেলে নারীরাও পারে, শুধু যাত্রী হিসেবে নয়, চালকের আসনেও।

নারীদের উদ্দেশে সুপ্রিয়ার আহ্বান, ঘরে বসে না থেকে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং প্রয়োজনের সময় নিজেরাই যেন জীবনের ‘স্টিয়ারিং’ ধরতে পারেন, সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ফুলতলার এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে সুপ্রিয়া কুন্ডু আজ তাই শুধু একটি পিংক বাস চালাচ্ছেন না-তিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নের পথে, আর তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে আরও অনেক নারী।





Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]