খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর একটি স্কুলের শৌচাগার থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজে থাকা শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ও ওই ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত সে। তবে ঘটনার দিন তার প্রাইভেট পড়া ছিল না। বেলা ২টার দিকে ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে শৌচাগারের দিকে যায় ওই ছাত্রী। সেখানে প্রবেশের আগে পেছন থেকে কেউ তাকে আঘাত করে বলে জানায় সে।
গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই ছাত্রী জানায়, আঘাতের পর চিৎকার করতে গেলে কেউ তার মুখ চেপে ধরে নাকে কোনো একটি পদার্থ স্প্রে করে। এতে সে আংশিক অচেতন হয়ে পড়ে। তবে কিছুটা জ্ঞান ছিল তার। এ সময় কেউ একজন ব্লেড দিয়ে তার হাতে আঘাত করছিল বলেও অনুভব করে সে। হামলাকারীদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলেও জানায় ওই ছাত্রী।
পরে জ্ঞান ফিরলে সে বুঝতে পারে, তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দও শুনতে পায়। হাত বাঁধা অবস্থাতেই দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে সে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজে থাকা শ্রমিকেরা শৌচাগারের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ওই ছাত্রী জানায়, হামলাকারীদের কাউকে সে দেখতে পারেনি। তবে তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে শনাক্ত করতে পারবে বলে জানিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, চলতি বছর স্কুলটির এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে জানাতে শিক্ষকেরা অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এ কারণে টিফিনের পর বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন শিক্ষক আলাদাভাবে পড়াচ্ছিলেন। তিনি নিজে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকে কারও সাড়া না পেয়ে সেটিতে তালা লাগিয়ে বিষয়টি তাকে জানান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো ওই শিক্ষকও বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে বের হয়ে যান।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যালয়ে মোট ৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন বলেন, ওই ছাত্রী হামলাকারীদের দেখতে পারেনি। ফলে তাদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্যও দিতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো ছাত্রীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।
ওসি আরও বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। তদন্তে সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীর হাতে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, কীভাবে ওই ক্ষত হয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
জ/উ