রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।
তারা হলেন মো. আতিক আহমেদ ও রাবেয়া তুস সাদিয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
রুয়েটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আতিক আহমেদ বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, তিনি রেডিয়েশন ফিজিক্স বিষয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ডিপ লার্নিং, মাল্টিমোডাল লার্নিং এবং বাস্তব বিশ্বের তথ্যনির্ভর এআই প্রযুক্তি।
রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টকি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। পিএইচডি চলাকালে প্রায় নয় মাস গুগলে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। সেখানে তিনি মাল্টি-এজেন্ট সিস্টেম ও টাইম-সিরিজ ফোরকাস্টিং নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণাপত্র আইসিএমএল, এএএআই, কেডিডি, ইসিএআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও Nature Communications, Information Fusion, Journal of Biomedical Informatics এবং Medical Image Analysis-এর মতো সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
একই শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী রাবেয়া তুস সাদিয়াও বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে পোস্টডক্টরাল স্কলার হিসেবে কর্মরত। রুয়েট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করার পর তিনিও ইউনিভার্সিটি অব কেন্টকি থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাবেয়া তুস সাদিয়ার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেডিকেল ইমেজিং ও সার্জিক্যাল ভিডিও অ্যানালাইসিস। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনে তিনি চিকিৎসক, সার্জন ও অন্যান্য গবেষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার মানোন্নয়ন তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।
স্ট্যানফোর্ডে পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে রাবেয়া তুস সাদিয়া বলেন, পিএইচডি পর্যায়ে এআই ও মেশিন লার্নিং নিয়ে গবেষণা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং তাঁর গবেষণার সঙ্গে স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের কাজের সামঞ্জস্য এ সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েক ধাপের কারিগরি ও কোডিংভিত্তিক সাক্ষাৎকার এবং গবেষণা উপস্থাপনার পর তিনি পোস্টডক্টরাল স্কলার হিসেবে নির্বাচিত হন।
রুয়েটে পড়াশোনার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকেই কম্পিউটার সায়েন্সের মৌলিক জ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পিএইচডি ও গবেষণার ক্ষেত্রে সেটিই তাঁর ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য, এই পথচলায় ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা তাঁকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, নিয়মিত পরিশ্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
রুয়েটের একই বিভাগের দুই সাবেক শিক্ষার্থীর স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ অর্জন তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণায় সক্ষমতারও উদাহরণ। এআই ও প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা এবং বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে তাঁদের গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।