শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দৈনিক জাতীয় অর্থনীতিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক।
তথ্যমতে, শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার কাটাখালী খাল পুনঃখনন করা হয়। এতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৩ মে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়। খনন কাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। খনন কাজে মোট খরচ হয় ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৩ টাকা।
এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ দিনের ভরাট খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় উপকারভোগীদের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও ও এই প্রকল্পের সভাপতি।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। দুঃখজনক বিষয় হলো কেউ কেউ এটা নিয়ে মিথ্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, কিন্তু আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কাজটি করেছি, আল্লাহ সবই জানেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরই স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বরাদ্দের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।