জবাবদিহি ডেস্ক

শিক্ষা

2026-08-19T02:28:53+06:00
2026-08-19T02:28:53+06:00
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
শিক্ষা
শিক্ষা পরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হচ্ছে মাউশি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ এএম 
আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, দপ্তরসহ শিক্ষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেন্ট্রাল সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালার কঠোরতা, সরকারি কার্যক্রমের প্রচারণা, লাইভ তদারকি, প্রশিক্ষণ, প্রভাব মূল্যায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণেরও উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল তদারকির মাধ্যমে সবকিছু মনিটরিং করার উদ্যোগ নিয়েছে মাউশি।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বারবার শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সমালোচিত হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাই যেকোনো অপপ্রচার রোধে সতর্কতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে কর্মকর্তাদের বিরত রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়মনীতি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট মাউশিতে চলতি বছরের আগস্টের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি সভায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ মাউশি বরদাশত করবে না বলেও জানানো হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা নীতিমালা কেউ লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কর্মকাণ্ডে যেন শিক্ষা পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে মহাপরিচালক সবাইকে সতর্ক করেছেন। নীতিমালা লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট্রাল সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাউশি কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি সুবিধা আছে এবং প্রায় ৫২ হাজার ক্যামেরা সচল রয়েছে, যার অর্ধেকই হিকভিশন ব্র্যান্ডের। হিকভিশন ও ডাহুয়া ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে যথাক্রমে ১৩০ কোটি ও ১১০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব আসলেও পুলিশকে দেওয়া গ্রামীণফোনের প্রস্তাবিত ৩ কোটি ও ৬ কোটি টাকার প্যাকেজটি বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী বলে মাউশির সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়। এসব প্রস্তাব যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে টেকনিক্যাল কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল মনিটরিং ও ডিএমএস ব্যবহার

কেন্দ্রীয় সিসিটিভি ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাউশি। বর্তমানে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম (ডিএমএস) অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লাইভ মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম সচল রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সরকারি কার্যক্রমের প্রচারণা

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেসব ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অধিদপ্তরের কার্যক্রমগুলো প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও ইমপ্যাক্ট স্টাডি

এ ছাড়া মাউশির আগস্টের সমন্বয় সভার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদন্ত পরিচালনার দক্ষতা যাচাই করতে এর আগে দেওয়া প্রশিক্ষণের ওপর একটি ‘ইমপ্যাক্ট স্টাডি’ বা প্রভাব মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৪১টি ব্যাচে মোট এক হাজার ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নতুন মডিউলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য একটি দক্ষ প্যানেল বা ‘পুল’ তৈরি করা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন

গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব শাখাকে এই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনউদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল শিক্ষা পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই শিক্ষা পরিবারের সদস্য। এই শিক্ষা পরিবারকে আমাদের সবাইকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ওপর অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের এমনভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই শিক্ষা পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।





Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]