মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তেলের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার ট্রেডিং সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ০.৬০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৭৭ ডলারে অবস্থান করছে।
তেলের চাহিদা কমার পেছনে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং সেখানে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইইএ তাদের আগস্টের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অতিরিক্ত উচ্চমূল্যের কারণে চাহিদা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চলতি বছর দৈনিক তেলের চাহিদা রেকর্ড ১৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে।
অন্যদিকে, ওপেক বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কিছুটা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিলেও আগের প্রত্যাশার তুলনায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দৈনিক ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নামিয়ে এনেছে।
চাহিদার পূর্বাভাস কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক তথ্যও তেলের বাজারে চাপ তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুত এক লাফে ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। এতে দেশটির মোট মজুত ৪২ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়া এবং রফতানি কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উদ্বৃত্ত আরও বেড়েছে। সূত্র: অয়েল প্রাইস ডটকম
জ/উ