বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)কে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ।
সকালে কারাগার থেকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৫ জুলাই মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। শুনানিতে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা দাবি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার খালাস প্রার্থনা করেন। বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ থেকে অবসরে যান।
এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ, ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে এস কে সুর আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) সংশ্লিষ্ট ঋণ কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতা করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে এস কে সুর, তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে তাঁকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণীর ফরম ও আদেশ গ্রহণ করলেও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা জমা দেননি। এ কারণে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন তাঁর, তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে ২৫ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ৬ নভেম্বর আদালত এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
জ/শা