রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-02-26T14:03:28+06:00
2026-02-26T14:03:28+06:00
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে
অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাণীশংকৈলের রামরাই দিঘি
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৩ পিএম 
শীতপ্রধান দেশ থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল রামরাই দিঘিতে এসেছে রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখি। শীত মৌসুমে এ দেশের নদ-নদী, হাওড়-বাঁওড়ের ভালোবাসার টানে লাখো হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রামরাই দিঘিতে আসে এসব পাখি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাখি ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এসব পাখি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই আকর্ষণীয় তাদের খুনসুটি। পাখিদের মুহুর্মুহু কলতানে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে পাখির অভয়ারণ্য।

প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন রামরাই দিঘি বরেন্দ্র ভূমির প্রাচীন জলাশয়গুলির মধ্যে আয়তনে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। পুকুরটি ১৮.৩৪ একর সু-উচ্চ পাড় ও ২৩.৮২ একর জলভাগসহ মোট ৪২.২০ একর বিশিষ্ট। পুকুরটির দৈর্ঘ্য (উত্তর-দক্ষিণ) ৯০০ মিটার ও প্রস্থ (পূর্ব-পশ্চিম) ৪০০ মিটার। এর সঠিক ইতিহাস এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হয় দিঘিটি পাঁচশ থেকে হাজার বছরের পুরনো হতে পারে। একসময় এই দিঘি ছিল এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানির চাহিদা পূরণের উৎস।


২০০২ সালে রামরাই দিঘির নামকরণ করা হয় রানি সাগর। তবে লোকমুখে এটি রামরাই দিঘি নামেই পরিচিত। এর চারপাশে প্রায় ১,২০০ এর অধিক লিচু গাছসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর দিঘির টলটলে জলরাশি মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ও জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে উত্তর মেরু, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়ের পাদদেশ, তিব্বত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। সাদা বক, বালিয়া, পানকৌড়ি, ঘুঘু, সারস, রাতচোরা, গাংচিল, পাতিহাঁস, বুনোহাঁস, খঞ্জনা, ওয়ার্বলার, হাড়গিলা, স্নাইপ বা কাদাখাঁচা, কোকিল প্রভৃতি হাজার হাজার পাখির আগমনে দিঘির সৌন্দর্য বেড়ে যায়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতিথি পাখির ঝাঁক থাকে। সন্ধ্যা নামলেই দিঘীপাড়ের লিচু বাগানে আশ্রয় নেয়। পাখিদের এই কলতানের টানে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমী পর্যটকরা। পাখিরা সাধারণত খাদ্যের প্রাচুর্যের কারণে এখানে আসে এবং মার্চ মাসের শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়। উপজেলা পরিষদ ইতিমধ্যেই রামরাই দিঘিকে নান্দনিক রূপ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দিঘির পাড়ে বসার জন্য তিনটি ছাতার ছাউনি, পাঁচটি বসার মাচা, একটি নৌকা, এবং একটি কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছে।


স্থানীয় পাখিপ্রেমী শেখ মেহেদী ও শহীদুল ইসলাম রকি জানান, দিঘির এলাকাটি নির্জন হওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ. খাদিজা বেগম বলেন, ‘রামরাই-দিঘি এখন অতিথি পাখির অভয়াশ্রম। আমরা নিয়মিত নজর রাখছি। পাখি শিকারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি পাখি শিকার করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জ/দি





Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]