সবশেষ মামলাতেও জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর বনানী থানায় করা মামলায় তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
আইনজীবীরা জানান, এর আগে অন্য মামলাগুলোতেও জামিন পেয়েছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। সর্বশেষ বনানী থানার মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে এখন আর বাধা নেই।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে তাকে বনানী থানার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আজ সেই মামলাতেও জামিন পেলেন তিনি।
এর আগে গত ৩০ জুন খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন খোয়াইব। যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে, গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর একে একে নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ মামলাতেও জামিন পাওয়ায় এখন তার মুক্তির পথ খুলে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।