ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-08-10T18:35:14+06:00
2026-08-10T18:35:14+06:00
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে
ছাতকে রুকসানা আত্মহত্যায় স্বামীর কারাদণ্ড
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম 
সুনামগঞ্জের ছাতকে নববধূ রুকসানা বেগমের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী আলী হোসেনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বড়বিহাই গ্রামের সফর আলীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের মেয়ে রুকসানা বেগমের সঙ্গে আলী হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রুকসানাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত জিনিসপত্র নির্ধারিত সময়ে দিতে না পারলে রুকসানাকে অপমান, ভয়ভীতি ও নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার ও ফ্রিজের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়। আত্মহত্যার দুই দিন আগে ২১ জুলাই রুকসানা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার বোনদের জানান। বোনেরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর ২৩ জুলাই সকালে স্বামীর বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রুকসানা। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পরদিন নিহতের বড় বোন নাজমা বেগম বাদী হয়ে ছাতক থানায় আলী হোসেনকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। মামলাটি তদন্ত করেন ছাতক থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রঞ্জন কুমার ঘোষ। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আলী হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হয়।

রায়ের পর নিহতের বড় বোন ও মামলার বাদী নাজমা বেগম পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতের রায় কার্যকর করার দাবি জানান। বাদীপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট চান মিয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত আইনের আলোকে যথাযথ রায় দিয়েছেন।





Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]