জর্ডানের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে রানী ও রাজকুমারীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভ্রমণ

2026-01-11T14:06:42+06:00
2026-01-11T14:06:42+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ভ্রমণ
জর্ডানের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে রানী ও রাজকুমারীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৬ পিএম 
জর্ডানের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে রানী ও রাজকুমারীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
নতুন বছরের শুরুতে জর্ডানের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীকে দেওয়া হলো এক দারুণ বার্তা। প্রকৃতির সান্নিধ্য আর ইতিহাসের গন্ধ মাখা দক্ষিণ জর্ডানের বিশ্ববিখ্যাত মরুভূমি ‘ওয়াদি রাম’ (Wadi Rum) ভ্রমণে বের হয়েছিলেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহ এবং তার কন্যা রাজকুমারী সালমা। বুধবারের এই রাজকীয় সফর কেবল ব্যক্তিগত ভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল জর্ডানের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

ইউনেস্কো (UNESCO) স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এই ওয়াদি রামকে তার রক্তিম বালুকাময় প্রান্তর এবং আকাশছোঁয়া পাহাড়ের জন্য 'ভ্যালি অফ দ্য মুন' বা চন্দ্র উপত্যকা বলা হয়। রানী এবং রাজকুমারীর এই সফর মূলত এই অঞ্চলের অনন্য ভৌগোলিক সৌন্দর্য এবং আদিম বেদুইন সংস্কৃতির প্রতি রাজপরিবারের গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

রানী রানিয়া এবং রাজকুমারী সালমার ভ্রমণের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি ছিল 'হিজাজ রেলওয়ে'র (Hijaz Railway) একটি প্রতিকৃতি বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ট্রেনে চড়া। অটোমান আমলের এই ঐতিহাসিক ট্রেনটি বর্তমানে জর্ডান হেরিটেজ রিভাইভাল কোম্পানি (JHRC) পরিচালনা করে। ট্রেনটি মরুভূমির বুক চিরে চলার সময় এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।


এই ট্রেন ভ্রমণটি কেবল যাতায়াত নয়, বরং এটি একটি 'ইমার্সিভ এক্সপেরিয়েন্স' বা অভিজ্ঞতামূলক ভ্রমণ। যাত্রাপথে ১৯১৬ থেকে ১৯১৮ সালের 'গ্রেট আরব রিভল্ট' বা মহান আরব বিদ্রোহের একটি খণ্ডচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। এটি সেই ঐতিহাসিক সময়কাল যখন আরবরা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়েছিল। বিখ্যাত হলিউড মুভি 'লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া'-তেও এই বিদ্রোহের বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে। রানী এবং রাজকুমারী ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে ইতিহাসের সেই গৌরবময় দিনগুলোকে যেন নতুন করে অনুভব করলেন।

ট্রেন ভ্রমণ শেষে রানী ও রাজকুমারী একটি পিকআপ ট্রাকে চড়ে মরুভূমির গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে এক বিশাল প্রান্তরে তাবু খাটিয়ে এবং বনফায়ার (বনভোজন) জ্বালিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়। আগুনের উষ্ণতায় তারা স্থানীয় ট্যুর অপারেটর এবং গাইডদের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় মেতে ওঠেন।

এই আলোচনায় উঠে আসে ওয়াদি রামের পর্যটন সম্ভাবনা এবং কীভাবে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যায়। রানী রানিয়া স্থানীয়দের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, ওয়াদি রামের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল এর পাহাড়-পাথরে নয়, বরং এখানকার মানুষের আন্তরিকতা এবং ঐতিহ্যের মাঝে নিহিত।

ওয়াদি রাম কেবল জর্ডানের নয়, পুরো পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর মরুভূমি। প্রায় ২৮৬ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি সৌদি আরব সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। ইউনেস্কোর মতে, এই স্থানটি ১২,০০০ বছরের মানব ইতিহাসের সাক্ষী।

ভৌগোলিক কাঠামো: এখানকার সুউচ্চ প্রাকৃতিক খিলান, সরু গিরিখাত এবং বিশাল বিশাল লাল বেলেপাথরের পাহাড় একে অন্য গ্রহের মতো দেখায়।


ইতিহাসের স্বাক্ষর: ওয়াদি রামের পাথরে পাথরে খোদাই করা আছে প্রায় ২৫,০০০ শিলালিপি এবং ২০,০০০ প্রাচীন নকশা। এগুলো আদিম মানুষের চিন্তাধারা এবং আধুনিক বর্ণমালার উৎপত্তির প্রমাণ বহন করে।

সিনেমা জগত: হলিউডের নির্মাতাদের কাছে ওয়াদি রাম এক স্বর্গরাজ্য। 'স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স', 'ডুন' (Dune), এবং 'দ্য মার্শিয়ান' মুভির শুটিং এখানেই হয়েছে। এর দৃশ্যপট এতই অদ্ভুত সুন্দর যে একে অনেক সময় 'মঙ্গলের বুক' বলে মনে করা হয়।

ওয়াদি রাম কেবল দেখার জন্য নয়, এটি দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্যও এক বিশেষ আকর্ষণ। বর্তমানে এখানে হাইকিং, রক ক্লাইম্বিং এবং জিপ সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে। রানী এবং রাজকুমারীর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পর্যটকদের জানানো যে, জর্ডান তার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে বিশ্বের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি।

রানী রানিয়া এবং রাজকুমারী সালমার এই সফর জর্ডানের রাজপরিবারের আভিজাত্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতি এবং দেশের ঐতিহ্যের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটায়। মরুভূমির লাল ধূলিকণা আর আকাশের নীল সীমানায় মা-মেয়ের এই মুহূর্তগুলো জর্ডানের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। বিশ্ববাসী যেন ওয়াদি রামের এই লাল মলাট খুললেই খুঁজে পায় সহস্র বছরের বীরত্বগাথা আর প্রকৃতির শান্তিময় রূপ।

জ/উ





Advertisement
Loading...
Loading...
ভ্রমণ - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]