ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-11-05T18:15:05+06:00
2026-11-05T18:15:05+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৬:১৫ পিএম | ৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এফওআরবি প্রজেক্টের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর রুহী নাজ এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ড. চার্লস রীড ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজায় সরকারের সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে।

প্রতিনিধিদল আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে সংসদীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আগ্রহও জানান তাঁরা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

জবাবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। তাঁর ভাষায়, দেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন নেই। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস গঠন এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতি প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে, যা সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদে সব সংসদ সদস্যের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা, যা অতীতে একইভাবে দেখা যায়নি। সংসদে ভিন্নমত ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন, স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ ধারণ ও পালন করতে পারবেন এবং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রম, সুশাসন ও সামাজিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জ/উ


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত