জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বিসিবি

জবাবদিহি ডেস্ক

খেলাধুলা

2026-11-04T15:24:04+06:00
2026-11-04T15:24:04+06:00
বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
খেলাধুলা
জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বিসিবি
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৩:২৪ পিএম | ৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবার
সংগৃহীত ছবি
সাবেক নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত কমিটি। নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ দুটি হলো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং রূঢ় ও অসদাচরণ। বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানিয়েছেন, এ দুই ধরনের আচরণই যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

মাহিন এম রহমান জানান, জাহানারা আলম অভিযোগ জানানোর পরপরই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত-উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান বিসিবির এই আইনজীবী। তবে জাহানারা আলম আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা তদন্তে মেলেনি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মঞ্জুরুল আলমকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবিসংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে আর অংশ নিতে পারবেন না তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহিন এম রহমান বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল নানা তথ্য উঠে আসে। এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান ও গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তদন্তের উপকরণ ও প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না করে গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালাটি গ্রহণ ও প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিসিবির ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডে কর্মরত নারী কর্মীরাও যেকোনো সময় অভিযোগ জানাতে পারবেন।

মঞ্জুরুল আলমের আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি পৃথক রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান মাহিন এম রহমান। তিনি বলেন, ওই দুই মামলায় বিসিবির আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন। শুনানির সময় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত মঞ্জুরুল আলমের করা রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।

এদিকে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে এক নারী ক্রীড়াবিদের করা আরেকটি রিট আবেদন হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় বিসিবিও পক্ষভুক্ত। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন এবং এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে বলে জানান বোর্ডের আইনজীবী।

মাহিন এম রহমান বলেন, মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি জাহানারা আলমকে জানানো হয়েছে। তিনি মামলা করতে চাইলে বিসিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে। কারণ, এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই অভিযোগকারী হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

তদন্ত কমিটির সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে মাহিন এম রহমান বলেন, মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে ‘হাই-হ্যান্ডেড রুড বিহেভিয়ার’ এবং ‘ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট টাচিং’-এই দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় আচরণই যৌন হয়রানির পর্যায়ভুক্ত।

জ/দি


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত