স্বামীহারা শিল্পী বেগমের সংসারে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা পরিবারটির একমাত্র আশ্রয় ছিল জরাজীর্ণ একটি ঘর। বৃষ্টিতে চাল দিয়ে পানি পড়ত, আর রাত নামলে সন্তানদের নিয়ে কাটত অনিশ্চয়তায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে মজমুল হক আলতু মেম্বার ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে শিল্পী বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে একটি চৌচালা টিনের ঘর।
শিল্পী বেগম নেত্রকোনা সদর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। নতুন ঘর পেয়ে তাঁর পরিবারে নিরাপদে বসবাসের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। ঘরটি শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং সন্তানদের নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকার একটি অবলম্বন হয়ে উঠেছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঈদ ও রমজানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র প্রদান এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া। এ ছাড়া আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও ভূমিকা রাখছে ফাউন্ডেশনটি।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, “আমরা অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছি। যাঁরা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না, যাঁদের থাকার জায়গা নেই কিংবা অভাবে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এমন কোনো অসহায় মানুষের খবর পেলে আমাদের জানাবেন।”
তিনি আরও জানান, অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করাই তাঁদের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মশিউর রহমানের বাবা আলতু মেম্বারের নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে। পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।
শিল্পী বেগমের পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে মানবিক সহায়তার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ালে অনেক পরিবারের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।
জ/উ