নদী, মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নদীর অস্তিত্ব রক্ষার উপায় নিয়ে নেত্রকোনায় নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীর সংকট, দখল-দূষণ এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও নেত্রকোনা গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির আয়োজনে নেত্রকোনা শহরের সুগার অ্যান্ড স্পাইসি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন রাজশাহী গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি ও নদী গবেষক মাহাবুব সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জের নদী গবেষক ড. হালিমদাদ খান, ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবুল কালাম আল আজাদ, লেখক ও গবেষক সঞ্জয় সরকার, কবি ও গবেষক সোহরাব উদ্দিন আকন্দ, কবি রীনা পণ্ডিত, সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, নদী গবেষক তানভীর হায়াত খানসহ স্থানীয় নদী চিন্তক, গবেষক ও সাংবাদিকেরা।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাহাবুব সিদ্দিকী ও ড. হালিমদাদ খান। তাঁরা বলেন, নদী শুধু পানিপ্রবাহের উৎস নয়, মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর।
বক্তারা বলেন, নদীর সংকট মোকাবিলায় সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। নদী, হাওর ও জলাভূমির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।
ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, নদী, হাওর ও জলাভূমিকে শাসন করবেন না, অত্যাচার করবেন না। তা হলে আমরা ভালো থাকব। সভায় রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদী নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
পদ্মা থেকে মগড়া পর্যন্ত বিভিন্ন নদীর পরিস্থিতি আলোচনায় উঠে আসে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদী ও মানুষের সম্পর্ক রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেত্রকোনা গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সহসভাপতি ও সাংবাদিক আলপনা বেগম।