বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও প্রথিতযশা আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৪ অক্টোবর। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটকাবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন তিনি।
দীর্ঘ আইন পেশায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আইনি সংস্থার অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন রফিক-উল হক। তিনি অর্থ, ব্যাংকিং ও ক্রেডিটবিষয়ক জাতীয় কমিশনের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া কমিশনের অধীন ব্যাংকিং আইনবিষয়ক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সাব-কমিটি ১৯৮৪ সালে বর্তমানে প্রচলিত বাংলাদেশ ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন করে।
আইন ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে করপোরেট আইন কমিটির চেয়ারম্যান, ১৯৭৭ সালে কোম্পানি আইন সংস্কার কমিটির সদস্য এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই আইনজ্ঞ।
আইন পেশার পাশাপাশি মানবহিতৈষী ও সমাজসেবক হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি ছিল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আহছানিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আদ-দ্বীন ওমেন্স মেডিকেল কলেজ, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতাল এবং আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতাল।
এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজের তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অনুদান দিয়েছেন। আইন অঙ্গনে অবদান রাখার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে তাঁর এই ভূমিকা তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
জ/উ