বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে আসার পথে রয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়ছে। এ তালিকায় দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আর্থিক মূল্য বিবেচনায়।
গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভারত। দেশটির অভ্যন্তরীণ ভোগ, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদনশিল্পের সম্প্রসারণ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির আকার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত। তবে তুলনামূলক ধীর প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমশক্তির সংকোচনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতির তালিকায় ভারত ও জাপানের অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে কোনো দেশের জিডিপির মোট আকার বড় হলেই সেই দেশের নাগরিকেরা অন্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় বেশি ধনী—এমনটি নয়। মাথাপিছু আয়, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, আয়বৈষম্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মানুষের জীবনমান মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ভারতের অর্থনীতির সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দেশটির গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে। তবে বিশাল জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, জিডিপির পূর্বাভাস পরিবর্তনশীল। বিনিময় হারের ওঠানামা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি এবং পরিসংখ্যান সংশোধনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির তালিকায় দেশগুলোর অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে পারে।
জ/উ