ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফুটপাতের ওপর এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ দণ্ড দেন। পরে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

2026-10-15T07:39:08+06:00
2026-10-15T07:39:08+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৭:৩৯ এএম | ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফুটপাতের ওপর এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ দণ্ড দেন। পরে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করা হয়। এদিকে, ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খালিদ হাসানকে আটক করা হয়। বুধবার তাঁকে ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওসি তৈয়ব আরও জানান, খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত। ঘটনার সময় এএসআই আবদুল হাইসহ পুলিশের আরও দুই সদস্য কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। তাঁরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে আবদুল হাইকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপর দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) সদস্য। তাঁদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুরে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। পরে তিনি মুঠোফোনে তাঁর এক স্বজনকে ডেকে আনেন। ওই স্বজন এসে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মারধরের ঘটনাটি দেখা যায়।

দুই মিনিট ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাগান্বিত অবস্থায় গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে চড় ও লাথি মারছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পথচারীদের ভিড় জমে। তাঁদের কেউ দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিলেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

ভিডিওতে কয়েকজন পথচারীকে ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে’ এবং ‘মা-বোন নাই’—এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশের দুই সদস্যকে দেখিয়ে তাঁকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তি বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যুবকটি তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে তাঁকে আবারও থাপ্পড় মারেন ওই যুবক।

ঘটনার সময় ফুটপাত থেকে কয়েক হাত দূরেই পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে তাঁদেরও অন্য পথচারীদের মতো ঘটনাটি দেখতে দেখা যায়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের পাশাপাশি ওই ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাটিও আলোচনায় আসে।

জ/শা


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত