হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে কেন থামালেন সৌদি যুবরাজ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। তবে সৌদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরির আশঙ্কায় যুবরাজ এতে আপত্তি জানান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

2026-10-15T08:23:43+06:00
2026-10-15T08:23:43+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে কেন থামালেন সৌদি যুবরাজ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ৮:২৩ এএম | ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। তবে সৌদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরির আশঙ্কায় যুবরাজ এতে আপত্তি জানান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সরকারের ধারণা ছিল, ইয়েমেনে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথও তৈরি হতে পারে।

সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে বাধা ফিলিস্তিন ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রিয়াদের অবস্থান হলো, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসব হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয় এবং বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করে।

সৌদি আরবের যুবরাজের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ফলে তাঁর সম্মতি ছাড়া ইয়েমেনের সংঘাতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের অনুমতি পাওয়া কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামাসের হামলার আগে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো এড়াতে চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ কার্যত থমকে যায়। হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়াকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখেছিল ইসরায়েল। ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার আগ্রহের পেছনেও এ ধরনের কৌশলগত হিসাব কাজ করে থাকতে পারে।

সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপের প্রস্তাব ইরানের

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান রিয়াদকে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এ প্রস্তাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আরাগচি বলেন, ‘সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জ/শা 


  বিষয়:   সৌদি আরব  ইয়েমেন  ইসরায়েল  যুদ্ধ 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত