নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউরোপে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিমান চলাচল সম্প্রসারণ, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধার উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল সুবিধা সম্প্রসারণে এমআরও হাব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী এ ক্ষেত্রে ইতালির এজ কোম্পানি, আতিতেক এসপিএ ও জিলারদোনির অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।
এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।
বাংলাদেশে ইতালীয় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পর্যটন আকর্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জামপারেল্লি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ এবং পর্যটন উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ/উ