‘পারিবারিক পরিচয়ের বাইরেও জাইমার নিজস্ব যোগ্যতা আছে’

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাঁর শিক্ষা, পেশাগত প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর মতে, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। পারিবারিক পরিচয়কে কারও যোগ্যতা বা অযোগ্যতার চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ওই ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।

2026-10-13T07:20:33+06:00
2026-10-13T07:20:33+06:00
মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অন্যান্য
‘পারিবারিক পরিচয়ের বাইরেও জাইমার নিজস্ব যোগ্যতা আছে’
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৭:২০ এএম | ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাঁর শিক্ষা, পেশাগত প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর মতে, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। পারিবারিক পরিচয়কে কারও যোগ্যতা বা অযোগ্যতার চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ওই ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দাদা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, দাদি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, আর বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক—এমন পরিবারের একজন সদস্যকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বলছি, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের কথা।’

জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রকাশকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাঁর কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এমন আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে এসব আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন ও যোগ্যতার বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

জাইমার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত প্রস্তুতির প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, ‘পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং স্ট্রাগল তার জীবনের এক নিজস্ব অধ্যায়। জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।’

জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের পদে কাজ করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ বানালে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার হয় না।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের জনবল কাঠামো ও অর্থায়নের বিষয়টিও নিজের পোস্টে ব্যাখ্যা করেন রাষ্ট্রদূত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে দেওয়া হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কাজ করেন। ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত রয়েছেন। বাকি আটজনের বেতন-ভাতা সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বহন করা হয়।

জাইমা রহমানের নিয়োগের ধরন ব্যাখ্যা করে মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও লেখেন, ‘জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া পদটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। আমি নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা ছাড়াও মাঝে একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছি। কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয়, বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।’

জাতিসংঘের পেশাগত পদে বেতন-ভাতা নির্ধারণের বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘে বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয় যুক্ত হয়। ফলে বেতন নিয়ে কোনো অঙ্কের আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সুযোগ-সুবিধার অর্থায়ন প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, ‘যেমন সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধাদি জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই তা বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।’

পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমানের কাজ ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি লেখেন, ‘ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আগ্রহ থাকুক, প্রশ্ন থাকুক, তার কাজের মূল্যায়নও হোক। সেই মূল্যায়নে তার নিজের প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়। পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য তার প্রতি মানুষের আগ্রহের যেমন যৌক্তিক কারণ, তেমনি তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়—এই প্রত্যাশাসহ জাইমা রহমানের জন্য শুভকামনা।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নিয়োগপ্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা নিয়ে কোনো কোনো গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন।

এসব আলোচনায় বলা হয়েছে, জুনে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং ১৫ জুলাই জাইমা রহমানের নিয়োগের সময় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া পি-৩ পর্যায়ের পদে সাধারণত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে কিছু বিশ্লেষক জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

জ/শা 


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী কন্যা  ব্যারিস্টার জাইমা রহমান  জাতিসংঘে নিয়োগ  নিজস্ব যোগ্যতা 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত