ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রোয়ান অ্যাটকিনসন দীর্ঘ ৪০ বছর পর ওয়েস্ট এন্ডের মঞ্চে ফিরছেন। ‘রোয়ান লাইভ’ নামের নতুন এই শোতে ‘মিস্টার বিন’, ‘ব্ল্যাকঅ্যাডার’সহ তার জনপ্রিয় টেলিভিশন চরিত্রগুলো আবারও মঞ্চে তুলে ধরবেন তিনি। পুরোনো স্কেচের পাশাপাশি থাকবে নতুন পরিবেশনাও।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের গিলিয়ান লিন থিয়েটারে শুরু হবে ‘রোয়ান লাইভ’। ১৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে শোটি। মোট ৩০টি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে ‘নট দ্য নাইন ও’ক্লক নিউজ’সহ বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় কমেডি স্কেচ পরিবেশন করবেন অ্যাটকিনসন।
শোটি নিয়ে অ্যাটকিনসন বলেন, ‘ওয়েস্ট এন্ডে শেষবার কমেডি স্কেচ শো করার পর ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। যে স্কেচগুলোর মধ্য দিয়ে আমার ও রিচার্ড কার্টিসের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেগুলো আবার মঞ্চে পরিবেশন করতে ভালো লাগবে বলে মনে হয়েছে। এসব স্কেচ থেকেই আমার সবচেয়ে পরিচিত চরিত্রগুলোর জন্ম। এর পাশাপাশি এই শোর জন্য বিশেষভাবে লেখা কিছু নতুন পরিবেশনাও থাকবে।’
নতুন শোতে অ্যাটকিনসনের সঙ্গে আবারও কাজ করছেন লেখক রিচার্ড কার্টিস, ‘ব্ল্যাকঅ্যাডার’-এর লেখক বেন এলটন এবং সুরকার হাওয়ার্ড গুডঅল।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কার্টিস ও গুডঅলের সঙ্গে মঞ্চে কমেডি শো করতেন অ্যাটকিনসন। ১৯৮০-এর দশকে বিবিসির ব্যঙ্গাত্মক ধারাবাহিক ‘নট দ্য নাইন ও’ক্লক নিউজ’-এর মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। পরে ঐতিহাসিক কমেডি সিরিজ ‘ব্ল্যাকঅ্যাডার’-এ এডমন্ড ব্ল্যাকঅ্যাডার চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন।
১৯৮১ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ওয়েস্ট এন্ডে একক শো করেন অ্যাটকিনসন। এর পাঁচ বছর পর একই ধরনের আরেকটি শো করেন তিনি। মঞ্চে তাঁর অভিনয়শৈলী নিয়ে সে সময় প্রশংসা করেন দ্য গার্ডিয়ানের থিয়েটার সমালোচক মাইকেল বিলিংটন।
১৯৯০-এর দশকে ‘মিস্টার বিন’ চরিত্রের মাধ্যমে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে আরও বেশি জনপ্রিয়তা পান অ্যাটকিনসন। সংলাপের ব্যবহার কম হলেও শারীরিক অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে হাস্যরস তৈরিতে চরিত্রটি বিশেষ পরিচিতি পায়। পরবর্তী সময়ে চরিত্রটি নিয়ে অ্যানিমেটেড সিরিজও তৈরি হয়।
১৯৮০-এর দশকে মঞ্চেই প্রথম ‘মিস্টার বিন’ চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন অ্যাটকিনসন। পরে ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও চরিত্রটি নিয়ে হাজির হন তিনি।
২০১২ সালে প্রিন্স’স ট্রাস্টের একটি অনুষ্ঠানে ‘ব্ল্যাকঅ্যাডার’ চরিত্রেও ফিরে এসেছিলেন অ্যাটকিনসন। সেখানে আর্থিক সংকট নিয়ে তৈরি একটি নতুন স্কেচে তাকে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর ভূমিকায় দেখা যায়। তার সঙ্গে ছিলেন সিরিজটির আরেক অভিনেতা টনি রবিনসন, যিনি ব্যালড্রিক চরিত্রে অভিনয় করেন।
অ্যাটকিনসনের মঞ্চজীবনে আরও রয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা। ২০০৯ সালে ‘অলিভার!’ মঞ্চনাটকে ফ্যাগিন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অলিভিয়ের পুরস্কারের মনোনয়ন পান তিনি। ২০১৩ সালে সাইমন গ্রের ‘কোয়ার্টারমেইনস টার্মস’ নাটকেও অভিনয় করেন।
রিচার্ড কার্টিস বলেন, মঞ্চে অ্যাটকিনসনের অভিনয় দেখার ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে তার। প্রথমবার দেখেই বোঝা গিয়েছিল, অ্যাটকিনসন অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। গত গ্রীষ্মে অল্পসংখ্যক দর্শকের সামনে নতুন শোটির প্রস্তুতি শুরু করেন তাঁরা।
কার্টিসের ভাষ্য, অ্যাটকিনসনের অভিনয়ের জাদু, নিখুঁত উপস্থাপনা ও কৌতুকপ্রতিভা এখনো অটুট। তার কণ্ঠস্বর, শারীরিক অভিব্যক্তি ও বিচিত্র চরিত্রের সেরা পরিবেশনাগুলো নিয়ে সাজানো এই শো দর্শকদের আনন্দ দেবে বলে আশা করছেন তিনি।
টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মঞ্চে ফিরিয়ে আনার সাম্প্রতিক প্রবণতার অংশ হিসেবে আসছে ‘রোয়ান লাইভ’। এর আগে ‘ফল্টি টাওয়ার্স’, ‘দ্য গুড লাইফ’, ‘সাম মাদার্স ডু অ্যাভ ’এম’ এবং ‘অনলি ফুলস অ্যান্ড হর্সেস’-এর মতো টেলিভিশন সিরিজও মঞ্চে রূপ পেয়েছে।
জ/রা