কে হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে প্রাণচাঞ্চল্য। কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক পদের কান্ডারি? এনিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আগ্রহীরা নেতৃবৃন্দের আনুকূল্য পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তদবির।
পাশাপাশি কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতৃবৃন্দের মধ্যেও চলছে নানামুখী তৎপরতা। তবে কমিটিতে বিতর্কিতদের নেতৃত্ব দেখতে চান না তৃণমূল নেতা—কর্মী থেকে শুরু করে দলের নীতিনির্ধারণী মহল।
সাধারণ কর্মী—সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা তৃণমূল কর্মীবান্ধব ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চান। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চলছে নানামুখী আলোচনা।
একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, যোগ্য ও নেতাকর্মীদের আস্থার আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ত্যাগী, পরিশ্রমী ও রাজপথের পরীক্ষিত যুবনেতা মো: নুর আলম।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ওপর চলমান জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও চরম দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজপথ ছাড়েননি তিনি। ক্লিন ইমেজের সাদাদিধে কর্মীবান্ধব একজন মানুষ।
রাজনীতির জীবনে সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক শরিফুল উদ্দীন জুয়েল ও সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন মো: নুর আলম। তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে তিনি নিরলস ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের ত্যাগের পাশাপাশি উত্তর যুবদলের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় যোগাযোগ। কর্মী-বান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মো: নুর আলমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগে উজ্জ্বল। তিনি সাবেক ৪৩ নং ওয়ার্ড (বর্তমান ৩০ নং ওয়ার্ড) আদাবর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে আদাবর থানা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আদাবর থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক (মিল্টন-পাপেল) কমিটির সদস্য ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশি অভিযানে আটক হওয়া ৪৭৪ জনের মধ্যে তিনিও গ্রেফতার হন। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থেকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হলেও রাজপথের লড়াই থেকে এই যুবনেতা বিচ্যুত হননি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, আগামী দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও আন্দোলনমুখী করতে নুর আলমের মতো একজন সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জ/শা