কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের আট উপজেলায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিভিন্ন তথ্য ও অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশনায় এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জেলার আট থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, অপরাধপ্রবণতা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর সদরে ৩৫ জন, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর বাইরে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, আটকদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানদের চলাফেরা, পড়াশোনা ও বন্ধু-বান্ধবের বিষয়ে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বাকি ১৫ জনের তথ্য ও অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। যাচাইয়ে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর অভিযানটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জ/উ