বুকের হালকা ব্যথা নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করে। এটিকে সাধারণত গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে আমরা এড়িয়ে যাই। তবে সবসময় কি এই ব্যথা গ্যাসের কারণে হয়?
বুকে হালকা ব্যথা: কখন এটি গ্যাস্ট্রিক নয়, হৃদরোগের সংকেত?
মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই বুকের ভেতর হালকা ব্যথা অনুভব করলে আমরা অনেকেই এটিকে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা বলে ধরে নিই।
বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর ওঠা বা মুখে টক স্বাদ আসা খুবই সাধারণ ব্যাপার।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব বুকব্যথা গ্যাস থেকে হয় না। এর নেপথ্যে পেশিতে টান, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, কিংবা গুরুতর কোনো হৃদযন্ত্রের জটিলতাও থাকতে পারে। তাই সামান্য বুকব্যথাকেও সবসময় হেলাফেলা করা উচিত নয়।
বুকব্যথার সাধারণ ও নানাবিধ কারণের মধ্যে রয়েছে পেশিতে টান লাগা। ভারী কিছু তোলা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা কিংবা হঠাৎ অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে বুকের পেশিতে এমন হতে পারে।
এছাড়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় বুক ধড়ফড় করা, বুক চেপে ধরা বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যার সঙ্গে দ্রুত শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা অস্থিরতার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, সর্দি-কাশি, শ্বাসনালীর সংক্রমণ কিংবা ফুসফুসের নানা সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে, যা অনেক সময় কাঁধ, পিঠ বা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
কোন ৫টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?
হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এবং সঠিক সময়ে সতর্ক হতে নিচের লক্ষণগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া জরুরি:
১. বুকের মাঝখানে চাপ: বুকের ঠিক মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ, চেপে ধরা বা ভারী লাগার অনুভূতি হওয়া।
২. স্থায়ী ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট: ব্যথা যদি কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় এবং তার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে আসার মতো সমস্যা হয়।
৩. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: ব্যথা শুধু বুকে সীমাবদ্ধ না থেকে হাত, পিঠ কিংবা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া।
৪. হঠাৎ ঘাম ও বমি ভাব: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা বমি বমি ভাব দেখা দেয়া।
৫. অস্থিরতা ও অজ্ঞান হওয়া: মাথা ঘোরানো, প্রচণ্ড শরীর দুর্বল লাগা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া।
এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সবার আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে, হালকা ব্যথা হলেও যদি তা বারবার ফিরে আসে কিংবা দিনকয়েক পর আবার নতুন করে দেখা দেয়, তবে আর দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
জ/রা