ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব হলফনামায় দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
আজ বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে এসব বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। প্রার্থী অথবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের লেনদেন পরিচালনা করতে হবে। ২০ হাজার টাকার ব্যয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে লেনদেন হিসেবে দেখানো যাবে না।
সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে কাউকে হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
সংশোধিত বিধিমালায় সমান সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে লটারির বিধানও বাতিল করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটার চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। সহায়তাকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। তবে ওই ব্যক্তি কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশনা দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারদের একটি তালিকাও সংরক্ষণ করবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া সংশোধনীতে বিভিন্ন সংজ্ঞা ও করণিক ভুলসহ আরও কিছু বিষয় সংশোধন করা হয়েছে।
জ/উ